লন্ডন : বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ন

মরক্কোর ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন 'হাসান দ্বিতীয় মসজিদ'

মরক্কোর ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন 'হাসান দ্বিতীয় মসজিদ'

মরক্কোর ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন 'হাসান দ্বিতীয় মসজিদ'


প্রকাশ: ০১/১০/২০২৬ ০৮:২৫:৩৫ অপরাহ্ন

সৃষ্টি শৈলীর কারুকাজে অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপনা উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সমুদ্র তীরবর্তী শহর কাসাব্লাঙ্কার বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান মসজিদ। 

মরক্কোর সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের ১৩তম বৃহত্তম মসজিদ এটি। দেখতে যেন আটলালিন্টক মহাসাগরের বুকে চিরে গড়ে ওঠা এক সুন্দর স্থাপনা। রাতে বেলা জ্বলে ওঠা এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।

সমুদ্র তীরবর্তী মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহরে এ মসজিদটিকে দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হবে সাগরের ঢেউয়ের তালে তালে দুলছে মসজিদটি। 

আর এ ঢেউয়ের মধ্যেই যেন নামাজ পড়ছে মানুষ। ২২ একর জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির এক তৃতীয়াংশই সাগরের কুল ঘেঁষে পানির ওপর নির্মিত। হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে। আর মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন সেই পানির ওপর। নির্মাণশৈলীতেও অনন্য এ মসজিদটির তিনভাগের একভাগই সাগরের ওপর অবস্থিত।

আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশির পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মরক্কোর দ্বিতীয় হাসান মসজিদ। দূর থেকে দেখা যায়, সমুদ্রের ঢেউ এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে এর সাদা প্রাসাদের দেয়াল। 

ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদ এক বিস্ময়, এক শিল্প সমাহার, যেখানে আধ্যাত্মিকতা, নকশা, প্রকৃতি ও প্রযুক্তি মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। 

হাসান দ্বিতীয় মসজিদ: মরক্কোর কারুশিল্পের অনন্য প্রতীক
মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কার সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান দ্বিতীয় মসজিদ দেশটির স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন। বাদশাহ দ্বিতীয় হাসানের উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৯৯৩ সালে সম্পন্ন হয়।

আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশির পাশে অবস্থান করা এই মসজিদ আধুনিক প্রকৌশল ও ঐতিহ্যবাহী মরক্কান নকশার এক অপূর্ব সমন্বয়। সূক্ষ্ম জেলিজ টাইলের কারুকাজ, খোদাই করা কাঠ, মার্বেল ও মোজাইক অলংকরণে এর প্রতিটি অংশে ফুটে উঠেছে মরক্কোর শিল্পঐতিহ্য।

মসজিদের সুউচ্চ মিনার ও সমুদ্রের পটভূমি একে কাসাব্লাঙ্কার অন্যতম পরিচিত স্থাপত্যচিহ্নে পরিণত করেছে। স্থাপত্যের মহিমা ও সমুদ্রের প্রশান্তি দুটিকে একসঙ্গে ধারণ করে হাসান দ্বিতীয় মসজিদ যেন মরক্কোর সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

পৃথিবীর বিখ্যাত মসজিদগুলোর একটি মরক্কোর দ্বিতীয় হাসান মসজিদ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মিনারের মসজিদ। এর অবস্থান মুসলিম বিশ্বের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে, ঠিক আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে। মসজিদটির এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রের পানিতে ভাসমান। সমুদ্রের পানিতে ভাসমান অংশের ওপর দাঁড়িয়েও নামাজ পড়া যায়।

রাজা দ্বিতীয় হাসানের আকাক্সক্ষা থেকেই এই মসজিদ তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি স্থাপনা, যা শুধু তার দেশের মর্যাদা নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের মর্যাদা প্রতিফলিত করবে। ফরাসি স্থপতি মিশেল প্যাঁসোর দক্ষ নকশায় এবং লাখো মানুষের অংশগ্রহণে নির্মিত এই মসজিদ আজ মরক্কোর আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাজা দ্বিতীয় হাসান মসজিদটি তৈরি করায় একে দ্বিতীয় হাসান মসজিদ বলা হয়। মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৬ সালে, যদিও ১৯৬১ সালে মরক্কোর পঞ্চম রাজা মুহাম্মদের মৃত্যুর পরপরই এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। 

এরপর ১৯৮৯ সালে এটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও নানা কারণে পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।

আরও পড়ুন