বুরসা উলু ক্যামি মসজিদ, বুরসা, তুরস্ক।
আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘তুরস্কের বুরসা উলু ক্যামি মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
বুরসা উলু ক্যামি মসজিদ, বুরসা, তুরস্ক। একটি মসজিদের বিস্ময়কর ইতিহাস!
সম্ভবত আপনি তুরস্কের উলু জামি (Ulu Cami) বা গ্রেট মসজিদ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। "উলু" (Ulu) শব্দের অর্থ মহান বা বড়। তুরস্কের প্রধান শহরগুলোতে উসমানীয় বা সেলজুক সাম্রাজ্যের আমলে নির্মিত বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক উলু মসজিদ রয়েছে।
এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মসজিদগুলোর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
এটি তুরস্কের অন্যতম প্রাচীন এবং বিখ্যাত মসজিদ গুলোর একটি। সুলতান বায়েজিদ ইলদিরিম ঐতিহাসিক নিকোপোলিস যুদ্ধে সমগ্র ইউরোপের ক্রুসেডার বাহিনীকে পরাজিত করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই মসজিদটি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে নির্মাণ করেন।
এটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের ১০০ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৩৯৬ সালে এবং শেষ হয় ১৩৯৯ সালে। তার ঠিক ১০০ বছর আগে উসমানীয় সালতানাতের উত্থান হয় ও নির্মাণকার্য শেষ হয়।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটিকে তুরস্কের ঐতিহাসিকরা ইসলামের পঞ্চম বৃহত্তর মসজিদ বলে থাকেন! বায়তুল্লাহ, মসজিদে নববি, মসজিদে আকসা, দামেস্কের উমাইয়া জামে মসজিদের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ মনে করা হয় বুরসার এই উলু জামে মসজিদটিকে।
এই মসজিদের স্থাপত্য ছিলো ততকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির।
মসজিদের দেয়াল ও মিম্বারে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক বিষয়াবলি ছিল, যা তখনও পৃথিবীর অন্য কোথাও আবিষ্কৃত হয়নি।
এই মসজিদের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো সৌরজগতের একটি প্রতিকৃতি যা মিম্বারে অঙ্কিত আছে। চোদ্দো শতাব্দীর সেই সময়ে মুসলমানরা জ্যোতির্বিদ্যায় কতটা এগিয়ে ছিল, তার নির্দেশ করে এই প্রতিকৃতিটি। যখন কি-না আমেরিকার আবিষ্কার ই হয়নি! কিংবা ইউরোপে আলোকায়নের যুগ আসেনি। এবং কি ইউরোপীয়ানরা মনে করত পৃথিবী সমতল।
ইউরোপীয়ান বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর 'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে' বক্তব্যটাও এই মসজিদ নির্মাণের ২৩০ বছর পরের ঘটনা। এই বক্তব্যের কারণে গ্যালিলিওকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সৌরজগতের আবিষ্কারক হিসেবে নিকোলাস কোপারনিকাসকে যাকে সবাই চিনে তার-ও জন্ম এই মসজিদ নির্মাণের প্রায় ১০০ বছর পরে।
ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এখনো উলু জামে মসজিদে সৌরজগতের অঙ্কিত সেই প্রতিকৃতিটি রয়েছে। বুরসার বিখ্যাত এই মসজিদটি দেখতে আসা দেশ বিদেশি সকল পর্যটকটারা এখনো বিস্ময়করভাবে চেয়ে থেকে অবাক হয়! সেই সময়ের (তেরো শতাব্দী) ঐসকল জ্ঞানী সম্পূর্ণ মানুষদের নিয়ে।
