তুরস্কের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সুলায়মানি মসজিদ
আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘তুরস্কের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সুলায়মানি মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
সুলায়মানি মসজিদ তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের সর্ব বৃহত্তম একটি মসজিদ। মসজিদটি উসমানীয় স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি নিদর্শন।
রাজা প্রথম সুলাইমান এটি নির্মাণের আদেশ দেন এবং তার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের শৌর্য বীর্যের প্রতীক হিসেবে নির্মাণ করা হয়। ১৬শ শতকের প্রথমার্ধে সুলায়মানের অধীনে উসমানীয় সাম্রাজ্য উন্নতির শিখরে পৌঁছে।
উসমানীয়রা ছিল মধ্য এশিয়ার যাযাবর জাতির লোক। তারা ১৪৫৩ সালে খ্রিস্টান নগরী কোন্সতান্তিনোপল দখল করেন এবং তার নাম বদলে ইস্তানবুল রাখেন। তারা শহরটিকে একটি ইসলামী শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করেন।
সুলায়মান তার সাম্রাজ্যের গৌরব প্রকাশার্থে শহরের কাছের পাহাড়ে একটি বিরাট মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন।
মসজিদের অভ্যন্তর একটি বিরাট উন্মুক্ত জায়গা। এই উন্মুক্ত চত্বরে মুসল্লিরা একত্রে নামাজ পড়তে পারেন। ইসলামের ইতিহাসের শুরুতেই মসজিদের স্থাপত্যের ধারণাগুলি গড়ে উঠেছিল।
মদিনাতে মুহম্মদ সঃ এর সাদাসিধে বাড়িতে যেভাবে নামাজ পড়া হতো আধুনিক মসজিদগুলিতে সেই একই ধারণাগুলি অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়।
সব মসজিদেই একটি সান বা উঠান থাকে এবং পাশে থাকে কিছু ছায়া আচ্ছাদিত জায়গা ও প্রার্থনার জন্য একটি দালান। সুলায়মানি মসজিদে মিশরের কায়রো এবং তুরস্কের উসাক শহর থেকে আনা বিশাল কার্পেট দিয়ে মেঝে ঢাকা হয়েছে।
কার্পেটের নকশাগুলি মক্কার দিকে নির্দেশ করছে। সম্মানের প্রতীক হিসেবেই মসজিদের মেঝেগুলি কার্পেটে আবৃত করা হয় । আর এ দ্বারা বোঝানো হয় যে কার্পেটের নিচের ভূমি আল্লাহর প্রতি উৎসর্গীকৃত।
ছাদের কাছে বিশেষভাবে নির্মিত থালা ঝুলানো আছে যেগুলি মিম্বার থেকে ইমামদের কন্ঠ সারা মসজিদে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। মসজিদের বহু জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে এবং উন্মুক্ততার অনুভূতি সৃষ্টি করে যা ঐশ্বরিক চিন্তাভাবনায় সহায়ক।