লন্ডন : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ০৭:২৫ অপরাহ্ন

সুলতান আহমেদ মসজিদ

সুলতান আহমেদ মসজিদ, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক

সুলতান আহমেদ মসজিদ, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক


প্রকাশ: ২৪/০৬/২০২৬ ০৫:২৭:৩৪ অপরাহ্ন

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘মিশরের আমর বিন আল আস মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

পৃথিবীর এক জীবন্ত শহর ইস্তাম্বুল। এখানের প্রতিটি ইট-পাথরের মধ্যে মিশে আছে কয়েক শতাব্দীর সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য। এই শহরের বুকে যেন এক গাঁথুনি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক অপূর্ব নিদর্শন সুলতান আহমেদ মসজিদ, বিশ্বে যা ‘ব্লু মসজিদ’ নামে অধিক পরিচিত। মুসলিম স্থাপত্যকলার এক উজ্জ্বল কাজ এই মসজিদ, যার নীলচে গম্বুজ ও দেয়ালে বসানো রঙিন টাইলস যেন ইতিহাসের গায়ে অমর রঙ তুলেছে।

ওসমানি সুলতান প্রথম আহমেদ ১৬০৯ থেকে ১৬১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির স্থপতি ছিলেন তৎকালীন প্রখ্যাত প্রযুক্তি ও স্থাপত্যবিদ সেদেফকার মুহাম্মদ আগা।

কামাল আতাতুর্ক ১৯৩৪ সালে হাজিয়া সুফিয়া মসজিদকে জাদুঘর বানিয়ে নিলে ব্লু মসজিদ ইস্তাম্বুলের প্রধান মসজিদে পরিণত হয়। মসজিদটিতে মুসল্লির ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার।

অটোম্যান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটির প্রযুক্তিগত সৌন্দর্য সত্যিই দারুণ ও চিত্তাকর্ষক। এটি মুসলমানদের জন্য শুধুমাত্র একটি মসজিদ নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় স্থাপত্য-নিদর্শনও।

প্রতিটি মাধ্যমিক গম্বুজে ১৪টি করে জানালা এবং কেন্দ্রীয় গম্বুজে ২৮টি জানালা রয়েছে (৪টি নিয়মিত বন্ধ থাকে)। জানালার রঙিন কাচগুলো ভেনিসের সিগনোরিয়ার পক্ষ থেকে সুলতানকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘকালের শৈল্পিকতা হ্রাস পাওয়ায় অনেকগুলোই বর্তমানে পরিবর্তন করা হয়েছে।

ভেতরের দেয়ালগুলোর উপরিভাগে বাহারি কারুকাজ ও নকশাচিত্রের পাশাপাশি কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের ক্যালিগ্রাফি রয়েছে। ক্যালিগ্রাফিগুলো তৈরি করেছেন তৎকালীন সেরা ক্যালিগ্রাফার সাইয়িদ কাসিম গুবারি। মসজিদের মেঝেতে উন্নতমানের দামি কার্পেট বিছানো। নিয়মিত সেগুলো পাল্টানো ও পরিবর্তন করা হয়। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৪০ ফুট ও প্রস্থ ২১৩ ফুট।

সপ্তদশ শতকের এই সৌন্দর্যমণ্ডিত মসজিদ মুসলিম ঐতিহ্যের নিদর্শন হয়ে আছে। মসজিদটির কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও হলরুম। দেয়ালঘেরা সুপরিসর আঙিনায় রয়েছে কয়েকটি ফোয়ারা।

প্রতি বৃহস্পতিবার মসজিদের আঙিনা থেকে বসফরাস প্রণালির (সরু জলপথ) স্বচ্ছ পানিতে সূর্যাস্ত দেখার জন্য প্রচুর লোকের সমাগম হয়। আর রাতের বেলা বাতির আলো যখন মসজিদের মূল গম্বুজ, শাখা ও মাধ্যমিক গম্বুজ এবং মিনারগুলোর ওপর পড়ে, তখন অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেটি দেখার জন্যও অনেকে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

আরও পড়ুন