যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির গ্রাহক ও আমানতকারীদের প্রতিবাদ সভা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সাম্প্রতিক আর্থিক পরিস্থিতি এবং গত নয় মাসে ব্যাংকটির ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা লোকসানের খবরে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী গ্রাহক ও আমানতকারীরা।
গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি মিলনায়তনে যুক্তরাজ্য ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম মুর্তুজা সিআইপি'র সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান সুমনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আতাউর রহমান।
সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পর্যায়ের খ্যতিমান এবং সিনিয়র পরিষদের সিনিয়র অলিউল্লাহ নোমান, সংস্থার যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবুল, ব্যারিস্টার আবদুর রউফ রুবেল, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক এবং কমিউনিটি নেতা সিরাতুল আম্বিয়া সহ পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল লতিফ, ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমেদ, আলি আহমেদ, আলমগীর হোসাইন, যুবনেতা মুস্তাফিজুর রহমান শিপার, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক মাহবুব খানসুর, আরিফুর রহমান, আবদুস সাত্তার ও নাসিরুদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী গ্রাহকের আস্থা, আমানত ও আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ গভীরভাবে জড়িত।
গত নয় মাসে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা লোকসান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা, আমানতকারীদের আস্থা ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রবাসী আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে ব্যাংকটি ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। এ অবস্থায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁরা ইসলামী ব্যাংকের পতন চান না; বরং ব্যাংকটিকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ ও সারা জীবনের সঞ্চয় নিরাপদ রাখা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সভা থেকে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের আদর্শ, নীতি ও চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া ব্যাংকের স্বার্থ, সুশাসন ও আমানতকারীদের অধিকার রক্ষায় এর আগে উত্থাপিত আট দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়; এটি লাখ লাখ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশির আর্থিক আস্থার প্রতীক।
তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় যুক্তরাজ্য সহ সকল প্রবাসী গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সভা থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা, আমানতকারীদের অধিকার এবং ইসলামী ব্যাংকের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় যুক্তরাজ্য ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ তাদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।