আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি ও প্রবাসী হয়রানি বন্ধে লন্ডনস্থ আলতাব আলী পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ
প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে’র উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ঢাকায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের টিকেটের সঙ্গে বিমানবন্দর টেক্স দেওয়া হয়। এই টেক্সের টাকার বিনিময়ে সেবা পাওয়ার কথা। উল্টা প্রবাসীদের টেক্সের টাকার বিনিময়ে হয়রানির শিকার হতে হয় নিয়মিত।
এমনকি সামান্য প্রতিবাদ করে কর্মকর্তা কর্মচারিদের হামলার শিকার হয়ে লন্ডন প্রবাসী সুরত মিয়া নিহত হয়েছিলেন। আজো সেটার বিচার হয়নি।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান প্রবাসীদের মালামাল চুরি এবং হয়রানির প্রতিবাদ করেছিলেন।
প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের মালামাল চুরি এবং হয়রানির প্রতিবাদে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সরকার পরিকল্পিতভাবে বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে পুলিশ যে আচরণ ও ব্যবহার করেছে তা কখনো গ্রহনযোগ্য নয়।
বক্তারা অবিলম্বে বীর মুক্তিযুদ্বা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দুইবারের সাবেক নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবী জানিয়ে বলেন, আখতরুজ্জামানের মামলা নি:শর্ত প্রত্যাহার ও অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সকল রকমের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নতুবা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে থাকা প্রায় দুইকোটি প্রবাসী বাংলাদেশী চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
আখতারুজ্জামানের নি:শর্ত মুক্তি ও প্রবাসী হয়রানি বন্ধের দাবীতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে’র উদ্যোগে আয়োজতি সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন।
প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে’র আহ্বায়ক ব্যারিস্টার জহির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, গ্রেটার সিলেট ডেভোলাপমেন্ট ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আতাউর রহমান ও মজলুম সাংবাদিক জননেতা অলিউল্লাহ নোমান।
সাবেক ছাত্র নেতা শাহরিয়ার আলম শিপার ও জুবের আহমদ আহাদের যৌথ পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওয়াহিদ মাহবুব, কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব এমদাদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ঈসা, সংগঠক আবাদুল্লাহ আল মুনিম, রাইট ফর কনসার্ন প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান খান, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই -র প্রেসিডেন্ট মুসলিম খান, কমিউনিটি একটিভিস্ট সাইফুর রহমান পারভেজ, রায়হান আহমেদ প্রমুখ। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ফজলুর রহমান।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের শ্রম ও ঘামে পাঠানো রেমিটেন্স হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির অক্সিজেন। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের বড় উৎস হচ্ছে প্রবাসীদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে পাঠানো রেমিটেন্স।
অথচ, এই প্রবাসীরা যখন বিদেশে শ্রমবাজারে যাওয়ার চেষ্টা করেন তখন পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। শ্রম-ঘাম ঝড়িয়ে ও বসতভিটা বিক্রি করে প্রবাসে যাওয়ার জন্য যখন টিকেট কিনেন তখন এয়ারপোর্ট টেক্স দিতে হয়।
এই টেক্সের বিনিময়ে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় একরকম হয়রানির মুখে পড়েন। বিমানবন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারিদের দ্বারা নাজেহাল হন। বছরের পর বছর পার করে যখন দেশে ফিরেন আপনজনদের কাছে তখন বিমানবন্দরে পৌছে দেখেন কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে আনা মালামাল চুরি হয়ে গেছে। লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরত।
বক্তারা বলেন, সেদিন দীর্ঘ জার্নি শেষে এয়ারপোর্টে পৌছার পর তিন ঘন্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। সংসদ সদস্যদের বসার মত কোন ব্যবস্থা ছিল না।
একটি দেশের সংসদ সদস্যরা যখন এয়ারপোর্টে এমন হয়রানির শিকার হন, সাধারণ যাত্রীদের অবস্থা কি দাড়ায় সেটা সহজেই বোঝা যায়। ৩ ঘন্টা অপেক্ষার পর সংসদ সদস্যরা দেখেন তাদের বুকিং করা জমজমের পানি নেই।
এই পানির খোঁজ করলে অন্যের পানি তাদের দেওয়ার অপচেস্টা হয়। তখন আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছিলেন মাত্র। তাঁর প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হতে পারতো।
কিন্তু একজন সাবেক প্রবীন সংসদ সদস্য হিসেবে এই প্রতিবাদের জবাব দিতে সরকার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জামিন না দিয়ে ফ্যাসিবাদের মতই হয়রানি করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, সরকার যতই চেস্টা করুক না কেন, শেখ হাসিনার মত ফ্যাসিবাদ হতে দেবে না জনগণ।
প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত টাকা দিয়ে সেবা নেন। বিমানবন্দরের সেবা কারো দয়া নয়। সুতরাং সকলের উচিত এইসব অন্যয়ের বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে সোচ্ছার হওয়া।