লন্ডন : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২২ পূর্বাহ্ন

পৃৃথিবীর প্রথম ঘর

পৃৃথিবীর প্রথম ঘর

পৃৃথিবীর প্রথম ঘর


প্রকাশ: ২৪/১০/২০২৫ ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন


আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘পৃৃথিবীর প্রথম ঘর’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।


হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টির ২ হাজার বছর আগে পৃথিবীর প্রথম ঘর কাবা নির্মাণ করা হয়। আল্লাহর নির্দেশে কাবাঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফেরেশতারা।


এ মর্মে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এই ঘর, যা বাক্কায় (মক্কা নগরীতে) অবস্থিত এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত ও বরকতময়’ (সূরা আলে-ইমরান : ৯৬)।


আদম (আ.) পৃথিবীতে আসার পর আল্লাহতায়ালার হুকুমে আবার কাবাগৃহ নির্মাণ করেন এবং কাবাকেন্দ্রিক বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির নির্দেশ পান। হযরত নূহ (আ.)-এর যুগে মহাপ্লাবনে এ ঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে আল্লাহতায়ালার নির্দেশে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন।


হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)। নির্মাণের পর আল্লাহতায়ালা হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে বিশ্ববাসীকে এ ঘর জিয়ারতের আহ্বান জানানোর নির্দেশ দেন।


পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে পবিত্র কাবা ঘরের অবস্থান। হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল কাবা ঘর আবাদ করেছেন। বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আগমনের পর এই কাবাসংলগ্ন এলাকা আরাফার মাঠে হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও হজরত হাওয়া (আ.)-এর পুনরায় সাক্ষাৎ হয়।


কাবার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একত্রিকরণ। হযরত আদম ও হযরত হাওয়া (আ.) যেমনি ভাবে কাবাকে কেন্দ্র করে সাক্ষাৎ লাভের পর আল্লাহর করুণায় সিক্ত হয়ে পরস্পরে নতুন করে পথচলা শুরু করেন, ঠিক তেমনিভাবে পৃথিবীর নানাপ্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষ কাবাকে ঘিরে একত্রিত হয়ে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের পাথেয় পান।


পৃথিবীর মুসলমানরা দৈনিক পাঁচবার মহান রবের কুদরতি পায়ে আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে লুটিয়ে পড়েন এই কাবাকে কেন্দ্র করে। কাবার এই আকর্ষণই বান্দাকে মাবুদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।


কাবা পৃথিবীর প্রথম ঘর। প্রথম উপাসনালয়। কাবাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর আবাদ শুরু হয়। মূলের দিকে ফিরে যাওয়া মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাব। সৃষ্টিকর্তার হুকুম পালনের মাধ্যমে সন্তুষ্টি অর্জন এবং সৃষ্টির মূলের দিকে ফিরে যাওয়া, এই দুইটি বিষয়ের মাধ্যমে কাবা পৃথিবীব্যাপী মানবজাতিকে আকর্ষণ করে। যে আকর্ষণে মানবজাতি ছুটে চলে কাবা পানে। এক সময় কাফের-মুশরিকরাও কাবা তাওয়াফ করত। পরে কাবার পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার জন্য তাদের তাওয়াফ নিষিদ্ধ করা হয়।



আরও পড়ুন