ব্রিটিশ রাজনীতিতে ক্ষমতার লড়াই
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষমতার লড়াই। স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির জেরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সরিয়ে লেবার পার্টির শীর্ষ পদে বসার তোড়জোড় শুরু করেছেন হেভিওয়েট নেতারা।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে মাঠে নেমেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামও।
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে এখন চরম অস্থিরতা। স্থানীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। এরইমধ্যে ৮০ জনেরও বেশি এমপি এবং ৪ জন মন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের দীর্ঘদিনের মিত্ররাও স্বীকার করছেন, স্টারমারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার অক্ষমতা এবং সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতার অভাবই সরকারকে এই খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্টারমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তারই মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য ওয়েস স্ট্রিটিং। সরকারের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে চলতি সপ্তাহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।
শনিবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে স্ট্রিটিং ঘোষণা করেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে থাকবেন তিনি।
শুধু তাই নয়, স্টারমারকে বিদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা।
লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে স্ট্রিটিংয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় নাম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম।
পার্লামেন্টে ফিরে গিয়ে স্টারমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে তার জন্য এক লেবার এমপি নিজের আসনও ছেড়ে দিয়েছেন।
আগামী মাসের মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে বার্নহাম জয়ী হলে এবং ৮১ জন এমপির সমর্থন পেলে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের পথ অনেকটাই সুগম হবে। এমনকি স্ট্রিটিং নিজেও বার্নহামের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেই বড় ধরনের প্রশাসনিক স্থবিরতার ঝুঁকিতে পড়েছে যুক্তরাজ্য।
একদিকে ফ্রান্সের সাথে মিলে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার আন্তর্জাতিক জোট গঠন, আসন্ন ন্যাটো সম্মেলন; অন্যদিকে দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা বাজেট ও জ্বালানি বিলের মতো শত শত ফাইল প্রধানমন্ত্রীর ডেস্কে আটকে আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির এই প্রকাশ্য বিবাদ দেশ সচল রাখার জরুরি সিদ্ধান্তগুলোকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।