লন্ডন : বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

কুরবানির পশু বাড়িতে আনার পর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

কুরবানির পশু বাড়িতে আনার পর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

কুরবানির পশু বাড়িতে আনার পর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়


প্রকাশ: ২৭/০৫/২০২৬ ০৭:২৩:০০ পূর্বাহ্ন

একদিন পরই ঈদ। যে যারা পছন্দের প্রাণি কিনতে ভিড় করছেন হাটে। বৈরী প্রকৃতি মোকাবিলা করেই অনেকে হাট থেকে গরু কিনে বাসায় আনছেন। আবার দূর-দূরান্তের হাট থেকে পশু বাড়িতে আনার পর অনেক সময় পশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

পরিবহণের ঝক্কি এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পশুর কিছু সাধারণ ও জটিল রোগ দেখা দিতে পারে, যা সঠিক সময়ে প্রতিকার না করলে কোরবানিদাতার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথমত, কুরবানির পশুকে না হাটিয়ে গাড়িতে করে বাসায় আনবেন। বাড়িতে আনার পর তাকে অবশ্যই একটি শুকনো, বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত, ছায়াযুক্ত, বৃষ্টি থেকে বাঁচবে এবং পরিষ্কার জায়গায় রাখতে হবে এবং অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হবে ও সঙ্গে সঙ্গে খাবার দেওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি দিতে হবে।

বাড়িতে যদি অন্য কোনো পশু থাকে তবে নতুন পশুটি অন্যদের কাছ থেকে দূরে রাখবেন। পশুর মলমূত্র সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়িতে আনার পর পশুর পা পটাশ দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে।

অতিরিক্ত গরমে গরুর পেট ফেপে যেতে পারে। গরু খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিতে পারে। পেট ফেঁপে গেলে খাওয়ার সোডা, আদা ও কালোজিরার মিশ্রণ অথবা বাজারজাত অ্যান্টি-ব্লোট লিকুইড খাওয়ানো যেতে পারে। জাইমোভেট নামে একটি পাউডার আছে সেটিও খাওয়ানো যেতে পারে।

পশুকে হঠাৎ বেশি খাবার না দিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করতে হবে। কাঁচা ঘাস ও খড় পশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ খাদ্য।

দীর্ঘ পথ যাতায়াতের ক্লান্তিতে পশুর জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ অবস্থায় তাকে জোর না করে পর্যাপ্ত পানি এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এছাড়া পানির সঙ্গে স্যালাইন দিলে তা পশুর জন্য আরামদায়ক হয়ে থাকে। আর জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে।

তীব্র গরম এবং আর্দ্রতার কারণে পশুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। ফলে পশু ঘন ঘন হাঁপাতে থাকে, মুখ দিয়ে প্রচুর লালা পড়ে এবং একপর্যায়ে পশু জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দ্রুত পশুকে ছায়াযুক্ত ও শীতল স্থানে নিয়ে যেতে হবে। মাথায় ও শরীরে বারবার ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে।

অনেক সময় ট্রাক থেকে নামতে গিয়ে বা অন্য কোনো কারণে শরীরের কোনো স্থানে কেটে বা ছিলে যায়। সেক্ষেত্রে ক্ষতর গভীরতা অনুযায়ী প্রতিকার করতে হবে। 

হালকা ক্ষত হলে ভায়োডিন এবং গভীর ক্ষত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি বা বাজারে প্রচলিত সিভিট খুব ভালো কাজ করে।

আরও পড়ুন