লন্ডন : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২২ পূর্বাহ্ন

ইল্লিয়্যীন কী?

ইল্লিয়্যীন কী?

ইল্লিয়্যীন কী?


প্রকাশ: ২৬/০৯/২০২৫ ১১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন


আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘ইল্লিয়্যীন’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।


মানুষের জীবিত আত্মা রুহ এবং দেহ মিলেই মানুষের জীবন। আর রুহ যদি আলমে আরওয়াহ-এর জগতে চলে যায়, তাহলে এই দেহটা নিষ্প্রাণ। অর্থাৎ মৃত্যু। শরীরের যে কোনো একটা অংশে আঘাত পেলে মানুষ কষ্ট পায়, যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

মানুষের শরীরের আসল অংশ হলো রুহ, সেই রুহ বের হয়ে আলমে আরওয়াহ অর্থাৎ রুহের জগতে গিয়ে যদি সিজ্জিনের আজাবে পতিত হয়, তাহলে সেই দেহ তথা জিসিমের ওপর সেই আজাবটা বর্তায়। কেননা কিয়ামতের দিবসে কবরের সেই নিষ্প্রাণ দেহকে প্রাণ দিয়ে কবর থেকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, ইল্লিন (বা ইল্লিয়্যীন) হলো একটি অত্যন্ত উঁচু স্থান, যা জান্নাত অথবা সপ্তম আসমানে আল্লাহর আরশের কাছাকাছি অবস্থিত বলে মনে করা হয়। এটি নেককার বা পূণ্যবান মুমিনদের আত্মাদের আবাসস্থল এবং তাদের আমলনামা যেখানে সংরক্ষিত থাকে।

'ইল্লিন’ আরবী শব্দ, যার অর্থ শান্তিময় স্থান, উর্ধ্ব জগত ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থ মুমিনদের আত্মার উর্ধ্বলোকে বসবাসের শান্তিময় স্থান।

তবে প্রকৃত অর্থে উহা নেককার ব্যক্তির আমলনামা। নেককার ব্যক্তি তার উত্তম আমলনামা যখন কর্ম শেষে লাভ করবে, তখন তার আত্মায় যে পরম শান্তি অনুভব হবে ঐ অবস্থাকেই ‘ইল্লিন’ বলা হয়।

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ”অবশ্যই পুন্যবানদের কার্য বিবরণী আছে ইল্লিনে। হে রাসুল (সাঃ) ইল্লিন সমন্ধে আপনি জানেন কি? উহা লিপিবদ্ধ কর্ম বিবরণী। যারা আল্লাহর সান্নিধ্যে প্রাপ্ত তারা তা দেখে থাকেন।” ( সুরা মুতাফফিফীন, আয়াত ১৮ হতে ২১)

আল্লাহপ্রাপ্ত সাধক অলী-আল্লাহগন ইল্লিন সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের জাহেরী অর্থের পাশাপাশি তাদের সাধনালব্ধ জ্ঞান থেকে বাতেনী ব্যাক্ষা দিতে গিয়ে বলেন, মানুষ সৎ কর্ম করে ঈমানের সাথে মৃত্যুবরন করার পর পূন্যময় বিবরণী লাভ করে তার আত্মা পুনরুথ্থান পর্যন্ত যে শান্তিময় স্থানে অবস্থান করে উহাকেই ‘ইল্লিন’ বলা হয়।

জান্নাতের অবস্থান:
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: 
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلۡأَبۡرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ – وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ
 “কখনো নয়, নিশ্চয় নেককার লোকদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যীনে । কিসে তোমাকে জানাবে ‘ইল্লিয়্যীন’ কী”? (সূরা মুতাফফেফীন: ১৮ ও ১৯)

আব্দুল্লাহ ইবন‌্ আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ বলেন, ‘ইল্লিয়্যীন’ অর্থ জান্নাত, অথবা সপ্তম আকাশে আরশের নিচে অবস্থিত একটি স্থান। (তাফসীরে বগবী, ৪৬০/৪, তাফসীরে ইবন কাসীর ৪৮৭/৪।)।

ইমাম ইবন্ কাসীর রহ. আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ইল্লিয়্যিন শব্দটি ‘উলু শব্দ হতে নির্গত। যখন কোন বস্তু উপরে অবস্থান করে, তখন তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার মহত্ব বাড়তে থাকে।

এ কারণেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: 
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ
 “কিসে তোমাকে জানাবে ‘ইল্লিয়্যীন’ কী”? (মুতাফফেফীন: ১৯)

আল্লামা ইবন্ কাসীর, তাফসীরুল কুরআনুল আজীম, ৪৮৭/৪। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: 
وَفِي ٱلسَّمَآءِ رِزۡقُكُمۡ وَمَا تُوعَدُونَ
 “আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু।” (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ২২)

ইমাম ইবনে কাসীর এর তাফসীরে বলেন, “এখানে তোমাদের রিযিক” অর্থ বৃষ্টি আর “তোমাদের যা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে” অর্থ জান্নাত।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর ২৩৬/৪)


আরও পড়ুন