লন্ডন : শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

আল-আকসা মসজিদ

আল-আকসা মসজিদ, জেরুজালেম, ফিলিস্তিন

আল-আকসা মসজিদ, জেরুজালেম, ফিলিস্তিন


প্রকাশ: ৩০/০৭/২০২৬ ১১:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয়আল-আকসা মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী কাবা ঘর তৈরির ৪০ বছর পর হজরত আদম (আ.) অথবা পরবর্তীতে নবি ইব্রাহিম (আ.) ও সুলাইমান (আ.) এর মাধ্যমে নির্মিত ও পুনর্নির্মিত হয়। এটি মুসলমানদের প্রথম কিবলা এবং তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। 

নির্মাণ ও ইতিহাস
• ইসলামি বর্ণনা মতে, কাবা শরিফ প্রতিষ্ঠার চল্লিশ বছর পর আল-আকসা মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
• ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এটি ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
• উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ও তাঁর পুত্র আল-ওয়ালিদ প্রথম বর্তমান মূল ইমারত বা কibli মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। 
মসজিদ আল-আকসা হলো মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং প্রথম কিবলা, যা ফিলিস্তিনের প্রাচীন জেরুজালেম বা কুদস শহরে অবস্থিত। এটি কোনো একক ইমারত নয়, বরং প্রায় ৩৫ একর জায়গ জুড়ে থাকা পুরো প্রাঙ্গণটি আল-আকসা হিসেবে পরিচিত, যার মধ্যে রূপালি গম্বুজযুক্ত কিবলি মসজিদ এবং সোনালী গম্বুজযুক্ত কুব্বাত আস-সাখরা বা ডোম অব দ্য রক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব
• পবিত্রতা: মক্কা ও মদিনার পর এটি ইসলামের অন্যতম প্রধান পবিত্র তীর্থস্থান।
• মেহরাজ: রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজে গমনের পূর্বে ইসরা বা পবিত্র নিশিতে মসজিদুল হারাম থেকে এখানে এসে সব নবীর ইমামতি করেছিলেন।
• প্রথম কিবলা: হিজরতের ১৬ বা ১৭ মাস পর্যন্ত মুসলমানরা এই মসজিদের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। 

বর্তমান পরিস্থিতি
• অবস্থান ও প্রশাসন: এটি পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত এবং জর্ডানের দপ্তরে পরিচালিত ইসলামি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।
• সংঘাত ও বিধিমালা: ১৯৬৭ সালের পর থেকে প্রাঙ্গণটির স্থিতাবস্থা অনুযায়ী কেবল মুসলমানদের ইবাদতের অধিকার রয়েছে। তবে প্রায়ই সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা দেখা যায়।

যে কারণে হৃদয়ে ফিলিস্তিন..
(১) আল-আকসা মসজিদ ফিলিস্তিনে।
(২) বিশ্ব মুসলিমদের প্রথম কেবলা এই মসজিদ।
(৩) অসংখ্য নবীদের জন্মস্থান এই ফিলিস্তিন।
(৪) অনেক নবীগণ এই মসজিদের ইমাম ছিলেন।
(৫) কুরআনে আল-আকসা মসজিদের নাম রয়েছে।
(৬) এখান থেকেই নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) মিরাজে যান।
(৭) এই মসজিদে নামাজ আদায়ের সওয়াব বেশী।
(৮) এই মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ।
(৯) মুসলিমরা ফিলিস্তিনের স্থানীয় বাসিন্দা।
(১০) ইয়াহু_দীরা ফিলিস্তিনের যবর দখলদার।
(১১) এখানেই রয়েছে হযরত ইব্রাহিম এবং মূসা (আঃ) সহ অসংখ্য নবী রাসুলের কবর।

(১২) এখানেই আল্লাহর মহানবী রাসুল (ﷺ) সকল নবী রাসুলদের এবং ফেরেস্তাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন।সেই জামাতের ইমাম ছিলেন মহানবী, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এবং এই জামাতে মতান্তরে প্রায় ২৪ হাজার নবী রাসুল ছিলেন।
(১৩) এই মসজিদের নির্মাণের সাথে জড়িয়ে আছে হজরত আদম এবং সুলাইমান আলাইহিসসালাম এর নাম।
(১৪) এর সাথে জড়িয়ে আছে খলিফা হজরত উমর (রাঃ)এর সেই বিখ্যাত উটের বিরল ঘটনা। 
(১৫) এখানের সাথেই জড়িয়ে আছে দ্যা গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবীর অসংখ্য স্মৃতি। 
(১৬). এই মসজিদের পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে সম্পূর্ণ সূরা ইয়াসিন। 
(১৭) এই মসজিদের জন্য জ্বীনদের দ্বারা পাথর উত্তোলন করা হয়েছে গহীন সাগরের তলদেশ থেকে।যা কিনা কোন মানুষের পক্ষে অসম্ভব!!! 
(১৮) এই মসজিদে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করার জন্য একজনের আমল নামায় ২৫ হাজার রাকাআত নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব লিখা হবে।
(১৯) পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে মধ্যখানেই মহান আল্লাহ এই মসজিদ নিয়ে আলোচনা করছেন।

"তোমাদের কেউ যদি কোনো খারাপ কাজ বা বিষয় দেখে তাহলে সে যেন হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে দেয়, যদি তা করতে অপারগ হয় তাহলে যেন মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করে, যদি তাও করতে সক্ষম না হয় তাহলে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে, আর এটাই হচ্ছে ঈমানের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বলতম স্তর।" (বুখারি, হাদিস নং: ১৯৪)

হে আল্লাহ্... বিশ্ব মুসলিমদের প্রথম কেবলা জালেম ইজ/রা/ঈলীদের দখলমুক্ত করে মাজলুম ফি*লিস্তিনী মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দাও এবং বিশ্ব মুসলিমদের এক হয়ে ই/জ/রাঈলীদের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে গায়েবী সাহায্য করো। আল্লাহুম্মা আমীন। 

আরও পড়ুন