লন্ডন : সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ০৮:০১ অপরাহ্ন

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় কিয়ার স্টারমার


প্রকাশ: ১১/০৫/২০২৬ ০৭:০০:০০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর এবার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য। দলের ভেতর থেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক মন্ত্রীরা তাকে সোমবারের (১১ মে) মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। 

নির্বাচনে হেনস্থা হওয়ায় পার্টির হেভিওয়েট পার্লামেন্ট সদস্যরা পদত্যাগ করলে স্টারমারের বিরুদ্ধে আনা হতে পারে অনাস্থা প্রস্তাবও।

শনিবার (৯ মে) সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট রেডিও ফোরের সাক্ষাৎকারে এই আল্টিমেটামের কথা জানানোর পর ওয়েস্টমিনস্টারে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, সোমবারের মধ্যে স্টারমার দায়িত্ব না ছাড়লে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে।

যুক্তরাজ্যের কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের। ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলের প্রায় ৫ হাজার আসনের মধ্যে রিফর্ম একাই জিতেছে ১৪৫৩টি আসন। অন্যদিকে লেবার পেয়েছে মাত্র ১০৬৮টি। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও ক্ষমতাসীন লেবারকে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে নাইজেল ফারাজের দল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যু মিলিয়ে লেবারের এই হার হয়েছে।

অনেক এমপি এমন ফল আশা করেননি। দলের পরিশ্রমী কাউন্সিলরদের হারিয়ে যাওয়ায় লেবার শিবিরে আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটা ভোটারদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

তবে স্টারমারকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। লেবার পার্টির নিয়ম অনুসারে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে হলে দলের ২০ শতাংশ এমপি, অর্থাৎ অন্তত ৮১ জনের সমর্থন লাগবে। 

ক্যাথরিন ওয়েস্ট এখন পর্যন্ত ১০ জনের বেশি এমপিকে নিজের পক্ষে আনতে পারেননি। স্টারমারের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, বাকি ৭০ জনের সমর্থন পাওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

তবে আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম। তাকে অনেকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। 

বার্নহ্যামের সমর্থকরা চাইছেন, স্টারমার যেন পদত্যাগের একটা স্পষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেন। তবে জটিলতাও আছে। বার্নহ্যাম এখন পার্লামেন্ট সদস্য নন। তাকে প্রথমে উপ-নির্বাচনে জিতে এমপি হতে হবে, তারপর দলের নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এক-দুজন এমপির আপত্তিতে স্টারমারের পতন হবে না। কিন্তু যদি দলের হেভিওয়েটরা একে একে পদত্যাগ করতে শুরু করেন, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে স্টারমার এখনও আত্মবিশ্বাসী। আগামী সোমবার তিনি একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যেখানে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করবেন। আর বুধবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনে আগামী বছরের কর্মসূচি তুলে ধরবে লেবার সরকার।

পরিস্থিতি এখনও ঘোলাটে। আগামী কয়েকদিনেই দেখা যাবে, স্টারমার টিকে থাকতে পারেন নাকি লেবারের অভ্যন্তরীণ ঝড় তাকে ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দেবে।

আরও পড়ুন