সিলেট সিটি কর্পোরেশন
পাঁচ অঞ্চলে বিভক্ত হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম। হচ্ছে আঞ্চলিক কার্যালয়ও। এতে করে দূরবর্তী এলাকার নাগরিকদের সুবিধার্থে আর দৌড়াতে হবে না নগর ভবনে।
নিজেদের অঞ্চলেই পাওয়া যাবে সব সুবিধা। এজন্য প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে প্রধান নির্বাহী থাকবেন। থাকবে অন্যান্য কাঠামোও। ইতিমধ্যে অঞ্চলভিত্তিক কার্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
সিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যবর্তী হিসেবে জোনগুলো বিবেচিত হতে পারে। নগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলের নাগরিকরা সিটি করপোরেশন থেকে সেবা গ্রহণ করবেন। অপরটি চারটি জোনের নাগরিকরা নিজ নিজ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সেবা নিতে পারবেন।
এই সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রশাসনিক কাজ, (কর্মচারীদের বেতন, অফিস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত খরচ), পূর্ত কাজসমূহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, দাতব্য চিকিৎসালয়।
এ ছাড়া, আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটেশন ভেটেরিনারি কার্যক্রম, জবাইখানা ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনকরণ, মশক নিধন, পাবলিক টয়লেট, শিশু কেন্দ্র, কবরস্থান এবং শ্মশানঘাট রক্ষণাবেক্ষণ, সিটি কর নির্ধারণ ও আদায়, লাইসেন্স প্রদান ও ফি আদায়, বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত, বাজার ফি আদায়, আবর্জনা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নকরণ, স্যানিটারি ল্যান্ডফিলিং, ডাম্পিং গ্রাউন্ড রক্ষণাবেক্ষণ, সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি (কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, পাঠাগার), ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, আত্ম-কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান, উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সিলেট নগরকে পাঁচ অঞ্চলে বিভক্ত করার বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এখন একটি বড় করপোরেশন। ৪২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এটি। এর মধ্যে দক্ষিণ অংশে রয়েছে ৯ ও উত্তর অংশে ৩৩টি। এত বড় আকারের সিটি করপোরেশনে মাত্র একটি অফিস দিয়ে সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নগরের উন্নয়নে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৮ মাস নাগরিক সুবিধা তেমন ছিল না। বর্তমান সরকার প্রশাসক নিয়োগ করায় কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। আসছে মেগা প্রকল্পও। যে প্রকল্পের উদ্বোধন গত ২রা মে করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগর হঠাৎ বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি সৌন্দর্যও বাড়বে। এর বাইরে নতুন করে সংযুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডে এখনো গ্রামীণ কাঠামো অবস্থায় রয়েছে।
এসব ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও তাদের করের আওতায় নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জের। ফলে সিলেট সিটি করপোরেশনকে পুরোদমে কার্যকর করতে এই আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটে নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সরকারের তরফ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর সুফল পাবেন নাগরিকরা।
এতে করে নগরের কার্যক্রমে আরও গতি আসবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানিয়েছেন, অঞ্চলভিত্তিক বিভক্ত দেশের বড় করপোরেশনগুলোতে রয়েছে। সিলেটে সেটি ছিল না।
সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে প্রস্তাবনা পাঠানোর ফলে সরকার সেটি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমা, টুকের বাজার ও খাদিম এলাকায় সিটি করপোরেশনে অফিসের ব্যবস্থা রয়েছে।
যেসব এলাকায় নেই সেগুলো নতুন করে করা হবে। তৃণমূল পর্যন্ত নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে এ প্রক্রিয়া কাজ করবে বলে জানান তিনি। এদিকে, নগরের ১, ২, ৩, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-১ গঠন করা হয়েছে। এটি নগরের মধ্যবর্তী এলাকা।
এর কার্যক্রম বর্তমান নগর ভবন থেকেই পরিচালনা করা সম্ভব। ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-২ গঠন করা হয়েছে। এটি নগরের পূর্ব এলাকা বলে পরিচিত। ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৩ গঠন করা হয়েছে।
এটিকে নগরের উত্তর-পূর্ব এলাকা বলে পরিচিত। ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৪ গঠন করা হয়েছে। এটি নগরের পশ্চিম এলাকা বলে পরিচিত। ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৫ গঠন করা হয়েছে। এ অঞ্চলটি নগরের দক্ষিণে অবস্থিত।