তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয় (প্রকৃত নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর)
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয় (প্রকৃত নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর) রাজনীতিতে এসেছেন মাত্র দুই বছর আগে।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার গড়া রাজনৈতিক দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন এক চমক তৈরি করেছে। রাজনীতির ময়দানে সংগ্রামী ভাবমূর্তি গড়ে তোলা বিজয় এবার নির্বাচনী লড়াইয়েও সফল হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিনগত মধ্যরাতে প্রাপ্ত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৩৪ আসনের মধ্যেতাঁর দল টিভিকে ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে তাঁর দলই।
যদিও থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকের এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব হবে না, তবে বেশি আসন পাওয়ায় ছোটদলগুলো তাকেই সমর্থন দিবে এটা প্রায় নিশ্চিত অন্যদের সমর্থনে সরকার গঠনের সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছে থালাপতি বিজয়ের দল।
এর বাস্তবায়ন হলে ৪৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুতে কোনো চলচ্চিত্র তারকা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে এম জে রামচন্দ্রন চলচ্চিত্রজগৎ থেকে উঠে এসে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা এক দশক রাজ্য শাসন করেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন বিজয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে লড়বে এবং বড় দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে।
দল গঠনের পরপরই অভিনয়জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি, যা তাঁর তিন দশকের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানে। প্রায় ৭০টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর এই সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করে তোলে।
পরবর্তী দুই বছরে টিভিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সংগঠনটি জেলা থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত শক্ত কাঠামো গড়ে তোলে এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেয়। বিজয়কে একজন মনোযোগী শ্রোতা ও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
তবে এই পথচলা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ছিল না। ২০২৫ সালে একটি কর্মসূচিতে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা দলের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই সংকটে বিজয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত ও দায়িত্বশীল। ভুল স্বীকার করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ করেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, ভবিষ্যতে শাসন পরিচালনার জটিলতা সামাল দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত হচ্ছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল বলছে, তাঁর সেই প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।