মসজিদে জিরানা
মসজিদে জিরানা! মসজিদটি মক্কা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তর পূর্বাংশে তায়েফের দিকে অবস্থিত। এটি নির্মিত হয় রাসুলের (সা.) জীবদ্দশায়। ৮ম হিজরিতে হুনাইন যুদ্ধের পর রাসুল (সা.) এই জায়গা থেকে ইহরাম বেঁধে ওমরাহ পালন করেছিলেন।
মক্কা বিজয়ের বছর ত্বায়েফ যুদ্ধ হতে ফিরার পর জিলকদ মাসের বার রাত যখন অবশিষ্ট, মঙ্গলবার দিবাগত রাত যে স্থানে হতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম) উমরার ইহরাম বাঁধেন, মসজিদটি সে স্থানে নির্মিত। বহুবার এটির সংস্কার হয়।
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জি’রানা হতে ইহরাম বাঁধেন যেখানে তিনি হুনাইন যুদ্ধের গণীমতের মাল বন্টন করেন। (বুখারী:৩/১১১৬-২৯০১)
মেহরাশ আল-কাবী হতে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম) জি’রানা প্রবেশে করেন। অত:পর মসজিদে আগমন করে আল্লাহ যে পরিমাণ তাওফীক দান করেন নামাজ আদায় করেন। তারপর ইহরাম বেঁধে স্বীয় সওয়ারীতে আসন গ্রহন করেন ও বাতনে সারাফ অভিমুখী হন। (আবু দাইদ:২/১৫৫,১৯৯৮, আল-বানী (রহ:) সহীহ বলেছেন।)
(২) জি’রানা কূপ: এটি এমন একটি কূপ, বলা হয় তার পানি অতি মিষ্ট। বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম)ই তার হাত মুবারক দ্বারা পানির স্থান নির্ণয় করেন।
কথিত আছে যে, তিনি তাঁর বর্শা দ্বারা আঘাত করলে সেখান হতে পানি বের হতে থাকে। ফলে তিনি তা হতে পান করেন এবং লোকেরাও তৃপ্ত হয়। (আল ফাকেহীর আখবার মক্কা:৫/৬৯ ইত্যাদি।)
বর্তমানে কূপটি বন্ধ, বাহিরের অন্য পানি একাকার হয়ে তা ব্যবহারের যোগ্যতা নষ্ট হওয়ার কারণে তার পানি পান করা হয় না। যেমন: স্থাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে এর রিপোর্ট্ এমনই প্রকাশ করা হয়।
