দেশে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতি শনিবারের মধ্যে স্বাভাবিক না হলে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ (নো ওয়ার্ক, নো পে) নীতি কার্যকর করতে পারেন মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে পোশাক রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সংগঠনের নেতারা এ বিষয়ে সকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চান। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, কাজী মনিরুজ্জামান, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, রুবানা হক ও খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
এছাড়া সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি ও হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সেলিম রহমান এবং সহ-সভাপতি রেজওয়ান সেলিমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার ও পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদও বৈঠকে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পোশাকশিল্পের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈঠক সূত্র জানায়, সরকার পক্ষ থেকেও মালিকদের শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির দাবির আড়ালে যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, শনিবারের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং শ্রমিকরা কাজে সহযোগিতা না করলে কারখানা মালিকরা ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ নীতি ঘোষণা ও কার্যকর করতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আরও জানায়, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে অস্থিরতায় জড়িত মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গত ১ নভেম্বর সরকার পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করে। আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ায় পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন মালিকরা বলে জানা গেছে।
বুধবার মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় ডিসেম্বর থেকে পোশাকশ্রমিকদের জন্য সংশোধিত বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। তবে এরপরও টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত থাকে।