লন্ডন : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

ব্রিটেনে গবেষক ভিসার খরচ ২২ গুণ বেশি

ব্রিটেনে গবেষক ভিসার খরচ ২২ গুণ বেশি

ব্রিটেনে গবেষক ভিসার খরচ ২২ গুণ বেশি


প্রকাশ: ০৭/১১/২০২৫ ১১:০৪:০০ পূর্বাহ্ন


গবেষকরা ব্রিটেনে যাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে যে ভিসা খরচ বহন করেন, তা অন্য দেশের তুলনায় এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নতুন একটি রয়্যাল সোসাইটি প্রতিবেদনের এ তথ্য উঠে এসেছে।


এই প্রতিবেদনে ব্রিটেনের অভিবাসন খরচ আপডেট করা হয়েছে। এটি ১৭টি অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেগুলো বিজ্ঞান ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়।


প্রতিবেদনে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা, গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা এবং ছাত্র ও স্নাতক ভিসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন কেমিস্ট্রি ওয়ার্ল্ড। এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক অভিবাসন খরচ ভিসার ধরনের উপর নির্ভর করে ৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।


২০১৯ সালের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ ১২৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাস্তব খরচে ৭৯ ভাগ বৃদ্ধি। এটা বিটেনে খরচ গড়ের তুলনায় ৯ গুণ বেশি। তবে যদি আন্তর্জাতিক গড় থেকে ব্রিটেনকে বাদ দেয়া হয়, তবে খরচ ২২ গুণ বেশি হয়।


এ বছরের শুরুতে হাউস অব লর্ডসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমিটি ব্রিটেনের ভিসা নীতি ‘জাতীয়ভাবে আত্মঘাতী কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এ খরচের সবচেয়ে বড় অংশ হলো ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ, যা অভিবাসীদের বিটেনে স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। ফেব্রুয়ারিতে এটি ৬৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে বছরে ১০০০ পাউন্ড হয়েছে।


আবেদনকারীদের ভিসা দেয়ার আগে পুরো আইএইচএস দিতে হয়, অর্থাৎ পাঁচ বছরের থাকার জন্য আবেদনকারীকে ৫১৭৫ পাউন্ড দিতে হয়, এর উপরে আরও যুক্ত হয় ভিসার ফি। পরিবারের সদস্য থাকলে খরচ আরও বাড়ে।


উদাহরণস্বরূপ, পাঁচ বছরের জিটিভি ভিসায় বৃটেন যাওয়া চার সদস্যের একটি পরিবারকে ২১,০০০ পাউন্ড আগাম দিতে হয়। আইএইচএস বাদ দিলে ও অন্যান্য প্রধান বৈজ্ঞানিক দেশগুলোর তুলনায় আবেদন ফি এখনও বেশি। ২০২৫ সালে বিটেনের খরচ ৭৬৬ পাউন্ড, যেখানে গড় আন্তর্জাতিক খরচ ২৭৫ পাউন্ড।


গবেষণায় দেখা গেছে, জিটিভি সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভিসা। এরপর আছে এসডব্লিউভি। যথাক্রমে, এগুলো পরবর্তী সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভিসা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা) থেকে ৭৯ ভাগ এবং ১৩৩ ভাগ বেশি ব্যয়বহুল। আইএইচএস বাদ দিলেও এগুলোর খরচ বেশি।


ব্রিটেনের ছাত্র ভিসা নিজ ধরণের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যা প্রায় তিন গুণ বেশি অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডের তুলনায়। তবে আইএইচএস বাদ দিলে এটি তৃতীয় অবস্থানে আসে, অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় ৩০ ভাগ কম খরচ আর সুইজারল্যান্ডের মতো নিয়োগকর্তা খরচ নেই।


রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি এড্রিয়ান স্মিথ বলেন, ব্রিটেনের গবেষণা ও উদ্ভাবনে চমৎকার খ্যাতি আছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। আমাদের অভিবাসন খরচ কমাতে হবে। জিটিভি সিস্টেমকে সহজ করতে হবে এবং সেরা প্রতিভাদের দ্রুত স্থায়ী স্থিতি দেয়ার পথ রাখতে হবে।


ভিসা খরচের সাম্প্রতিক তথ্য দেখাচ্ছে যে খরচ বাড়ছে, কমছে না। সরকারি শিল্প নীতির অধীনে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে ছোট সংখ্যক বিজ্ঞানী পুরস্কারপ্রাপ্তদের জন্য খরচ কমানোর কথাই যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তাই ব্রিটেন প্রতিভাদের জন্য প্রধান গন্তব্য হতে পারে, কিন্তু আমাদের কথার চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।


ক্যাম্পেইন ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড্যানিয়েল র‌্যাথবোন মন্তব্য করেন, আমাদের সাম্প্রতিক কাজ দেখিয়েছে যে ব্রিটেনের ভিসা খরচ সেরা ও মেধাবী গবেষকদের আসা থেকে বিরত রাখছে।


এই নতুন প্রতিবেদন দেখাচ্ছে যে ব্রিটেনের ভিসা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা ক্রমবর্ধমান। নিয়োগকর্তাদের আর্থিক সহায়তা গবেষককে ব্রিটেনে আনার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর খরচ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য টেকসই নয়। ভিসা ফিতে খরচ করা অর্থ প্রায়শই গবেষণায় বিনিয়োগের পরিবর্তে খরচ হয়।


আরও পড়ুন