ব্রিটিশ বাংলাদেশী খুদে লেখিকা জয়নাব চৌধুরীর দ্বিতীয় বই এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের উদীয়মান সাহিত্য প্রতিভাবান জায়নাব চৌধুরী আবারও অর্জন করলেন এক অনন্য সাফল্য।
মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রকাশিত হলো তাঁর দ্বিতীয় বই ‘A Leap Into The Unknown’, যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা ২০২৬-এ।
টাওয়ার হ্যামলেটসের সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সিভিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের একজন হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পাওয়া এই কিশোরী লেখক নতুন প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠছেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।
বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত রুপা চক্রবর্তী, সোয়ানলী স্কুলের হেড অফ দ্যা ইয়ার মিস মারবিচ (Miss Mrvic), ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ, কাউন্সিলর মিনারা খাতুন, কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান, শিক্ষিকা মিস ও’নীল (Miss O’Neal), সাংবাদিক এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী এবং অনুবাদক আনিসুজ্জামানসহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উপস্থিত বক্তারা সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার জন্য জায়নাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে জয়নব চৌধুরীকে ইয়াং লিটারেসি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড (Young Literacy Excellence Award) প্রদান করা হয়।
মানবিকতার অংশ হিসেবে খুদে লেখিকা জয়নাব বইমেলায় বিকৃত অর্থ ফিলিস্তিন এবং ইয়েমেনের শিশুদের জন্য দান করেন। জয়নাবের বইগুলো বইটি লন্ডনের লাইব্রেরী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে।
জয়নাবের দ্বিতীয় বই ‘A Leap Into The Unknown’ মূলত প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উত্তরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়কার অনুভূতি, চ্যালেঞ্জ, উদ্বেগ, সম্ভাবনা ও স্বপ্নকে অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছে বইটি।
জয়নাব এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যার শিকড় শিক্ষা, জনসেবা এবং সমাজকল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর দাদি রুনা বেগম (বিএ, বিএড) কমলগঞ্জের একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে বহু শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
জয়নাবের পিতা হাসান চৌধুরী সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
বইটির প্রকাশনা উপলক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছা ও প্রশংসা বার্তা এসেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল লন্ডন থেকে মেয়র লুৎফুর রহমানের শুভেচ্ছাবার্তা।
তিনি বলেন, তোমার দ্বিতীয় বই প্রকাশের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। এত অল্প বয়সে সাহিত্যচর্চার প্রতি তোমার নিষ্ঠা আমাদের সবার জন্য গর্বের।
বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে জায়নাব বলেন, আমি বিশ্বাস করি শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়; বরং আমাদের ব্যক্তিগত বিকাশ এবং স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
জয়নাব চৌধুরীর বই, সাহিত্যিক অর্জন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত রয়েছে তার ওয়েবসাইটে www.zaynabchowdhury.com
মাত্র ১২ বছর বয়সে দুটি বই প্রকাশ করে জয়নাব চৌধুরী প্রমাণ করেছেন যে বয়স কখনোই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। তাঁর অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।