ফুঁসে উঠছে ইরান
ইশফাহান সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ইরানিরা যখন কাজে বের হচ্ছিলেন, তখন রাজধানীজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন ভবন থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ইরানি গণমাধ্যম দেশজুড়ে হামলার খবর জানায়।
তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একাধিক স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার মধ্যে জোমহুরি ও পাস্তুর সড়কের আশপাশের এলাকাও রয়েছে। এখানেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় অবস্থিত। হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের জোমহুরি স্ট্রিটের কাছে একটি মোবাইল ফোনের দোকানের মালিক ৩১ বছর বয়সী মিলাদ। হঠাৎ করে গতকাল শনিবার সকালে বিস্ফোরণের শব্দ পান তিনি।
তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে। শব্দটা এতটাই ভীতিকর ছিল, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তারপর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনি, আর পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। মিলাদ দ্রুত দোকান বন্ধ করে মোবাইলে পরিস্থিতির খবর অনুসরণ করতে করতে বাড়ির পথে রওনা হন।
মিলাদ বলেন, বাড়ি ফেরার পথে আমি বুঝতে পারি যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। সত্যি বলতে, এরপর কী হবে সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই। এই মুহূর্তে আমার নিজেকে একটি প্রশ্নচিহ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমি কিছুই জানি না।
কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ইরানিরা আসন্ন হামলার আশঙ্কা করছিলেন বটে, তবে রাজধানীজুড়ে পরপর বিস্ফোরণে অনেকেই বিস্মিত হয়ে পড়েন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
দেশটির পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মার্কিন ঘাঁটি। কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় বেশ কিছু হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বড় ধরনের অভিযান’ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরানে পূর্বপরিকল্পিত হামলা শুরু হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ইশফাহান, কওম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের পাস্তুর জেলায় যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন, সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ২০১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। ইরানের মেহের নিউজকে ইরানের রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে।
এতে অন্তত ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টের ২২০টিরও বেশি দল হামলার স্থানগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর তৈরি করা হুমকি দূর করতে’ অভিযান শুরু করেছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না। ‘অপারেশন দ্য রোর অব দ্য লায়ন’ নামে এই অভিযানে নাগরিকদের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। জেরুজালেমের আকাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়।
এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানিয়েছেন, আত্মরক্ষার বৈধ অধিকারের আওতায় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে ইরান। তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জন্য ব্যবহার করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের দিক থেকে আসা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তারা চিহ্নিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত ও প্রয়োজন হলে আঘাত হানার মাধ্যমে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাজ করছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি নির্ভুল বা অপ্রবেশযোগ্য নয়, তাই জনগণের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অব্যাহতভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে’।
এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চলমান হামলাকে কাজে লাগিয়ে তারা যেন তাদের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন অস্ত্র না ফেললে ‘নিশ্চিত মৃত্যুর’ মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের জনগণের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আমরা শেষ করব, নিজেদের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের নেওয়ার জন্য থাকবে। বহু প্রজন্মে এটাই সম্ভবত আপনাদের একমাত্র সুযোগ’।
চলতি জানুয়ারির শুরুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন নিহত হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের এমন দাবির পর ট্রাম্প ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, দায়ীদের ‘বড় মূল্য দিতে হবে’, এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহায়তা পথে রয়েছে’।
তবে কয়েক দিন পর ট্রাম্প জানান, ইরান সরকারের কাছ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন, ‘হত্যা বন্ধ হয়েছে’ এবং তার দৃষ্টি সরে যায় দেশের পরমাণু কর্মসূচির দিকে, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘পুরোপুরি সুস্থ’ আছেন। ইসরায়েলি সূত্রের হামলার দাবিকে তারা নাকচ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নেই এবং তাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি আরবি বিভাগ জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কাছেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসনা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ - তার আশপাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সুস্থ রয়েছেন এবং কোনো সমস্যা নেই’। একই তথ্য প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি ও ইসনা নিউজ এজেন্সি।
এএফপি জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সাধারণত জনবহুল এমন এলাকায় সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে সেটি কি বিমান হামলার কারণে, নাকি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।
তেহরানের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘নিহত’ : রয়টার্স
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে পৌঁছেছে বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। শুরুতে নিহতের সংখ্যা ২৪ বলা হয়েছিল।
আল-জাজিরা লিখেছে, হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ওই হামলা চালানো হয়। ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আলী ফরহাদি বলেন, স্কুলটিতে শনিবার তিনটি মিসাইল হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছে।
মেয়েদের স্কুলে মিসাইল হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক হত্যার ঘটনায় কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লিখেছেন, মেয়েদের যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি ‘বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না’। আরাগচি বলেন, এই হামলার শিকার সবাই ‘নিষ্পাপ শিশু।’
কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওইসব দেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এই দূতাবাসগুলো দুটি পৃথক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, তারা ‘তাদের সব কর্মীর জন্য একটি আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে’।
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, দাম্মাম, শারজাহ, আবুধাবি, কুয়েত ও দুবাইগামী যাত্রীদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তেল উৎপাদনকারী উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এমন আশঙ্কাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একটি বিবৃতি দিয়ে অবিলম্বে শত্রুতার অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, তা না হলে ‘নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের’ ঝুঁকি তৈরি হবে।
গুতেরেস আরও বলেন, সব সদস্য রাষ্ট্রকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা, যার মধ্যে জাতিসংঘ সনদও অন্তর্ভুক্ত, তা মেনে চলতে হবে’, যে সনদে ‘কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকি বা ব্যবহার’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মানুষের তৈরি বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেইরাহতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
এক বিবৃতিতে দুবাই গণমাধ্যম দপ্তর বলেছে, ‘দুবাই কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করছে, পাম জুমেইরাহ এলাকার এক ভবনে একটি ঘটনা ঘটেছে। জরুরি রেসপন্স টিমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে আর স্থানটি সুরক্ষিত করা হয়েছে।’ তারা আরও জানিয়েছে, দুবাই দমকল পরিষেবা নিশ্চিত করেছে যে বিস্ফোরণের ফলে ধরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পামের একটি হোটেল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠছিল আর ঘটনাস্থলের দিকে অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটে যাচ্ছিল।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছেন ইরানিরা। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় এসেছেন বিক্ষোভকারীরা। যোগ দিয়েছেন নারী ও শিশুরাও।
এদিকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এসেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে। এ হামলায় চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মুজতবা খালেদি বলছেন, ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নাগরিকদের হামলাস্থলগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো শুরু করে। ইরানের শুধু হরমোজগান প্রদেশেই পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে।
কুয়েতে ইতালির একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে রোম।
ওই ঘাঁটিতে ৩০০ জন ইতালির সেনা সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।