লন্ডন : শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ন

ব্রিটিশ রাজপরিবারকে ক্ষমা চাওয়ার দাবী

ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ ব্যাকিংহাম প্যালেস

ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ ব্যাকিংহাম প্যালেস


প্রকাশ: ৩১/০১/২০২৬ ০৯:৫০:২৫ অপরাহ্ন

আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের দাস হিসেবে কেনাবেচা ও এই অমানবিক প্রথাকে দীর্ঘকাল সুরক্ষা দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রমাণ সামনে আসার পর ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জোরালো হয়েছে।


সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য ক্রাউনস সাইলেন্স’ নামক একটি গবেষণাধর্মী বইয়ে দাস ব্যবসায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও মুনাফা লাভের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।


গবেষণায় দেখা গেছে, রানি প্রথম এলিজাবেথ থেকে শুরু করে চতুর্থ জর্জ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা সাম্রাজ্যের রাজস্ব বাড়াতে দাস ব্যবসাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।


তথ্য অনুযায়ী, ১৮০৭ সাল নাগাদ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রীরাই ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীতদাস ক্রেতা। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি বছরের পর বছর ধরে এই অমানবিক বাণিজ্যকে পাহারা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছিল।


রাজা চার্লসের আগে দাস প্রথার ভয়াবহতা নিয়ে ‘ব্যক্তিগত দুঃখ’ প্রকাশ করলেও রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি।


ব্রিটিশ সংসদ সদস্য বেল রিবেরো-অ্যাডি বলেন, ব্যক্তিগত দুঃখ প্রকাশ মানবতাবিরোধী এই বিশাল অপরাধের জন্য যথেষ্ট নয়। এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, বরং রাজতন্ত্রের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়।


জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন প্রচারাভিযান গোষ্ঠী বলছে, দাস প্রথার উত্তরাধিকার হিসেবে বর্তমান বিশ্বে যে বর্ণবাদ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য টিকে আছে, তা নিরসনে এই ক্ষমা প্রার্থনা হতে পারে প্রথম ধাপ। গ্রিন পার্টির এমপি কার্লা ডেনিয়ার এই দাবিকে ‘দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।


চলতি বছরের শেষের দিকে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে (চোগাম) রাজা চার্লসকে ক্যারিবীয় ও আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


ঐতিহাসিকদের মতে, ২০২৬ সাল হতে পারে ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য তাদের অন্ধকার ইতিহাস স্বীকার করে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।


আরও পড়ুন