লন্ডন : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ইউরোস্টারের যাত্রীরা ভোগান্তিতে

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ইউরোস্টারের যাত্রীরা ভোগান্তিতে

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ইউরোস্টারের যাত্রীরা ভোগান্তিতে


প্রকাশ: ৩১/১২/২০২৫ ০৬:৪০:০০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে যুক্তকারী চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে ইউরোস্টার যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া এই সংকটে হাজারো যাত্রীর ভ্রমণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।


ইউরোস্টার হচ্ছে পশ্চিম ইউরোপের একটি আন্তর্জাতিক রেলসেবা, যা বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করে।


নতুন বছর উপলক্ষ্যে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যস্ততার মধ্যে অনেক যাত্রী জানান, রাতভর ট্রেনে আটকে থেকে তাদের ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় নষ্ট হয়েছে।

একজন যাত্রী বিবিসিকে বলেন, তিনি লন্ডন থেকে প্যারিসগামী সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটের ট্রেনে উঠেছিলেন, কিন্তু রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি টানেলের প্রবেশমুখে ট্রেনেই আটকে ছিলেন।


তার ভাষায়, কর্মীরা তাকে জানিয়েছিলেন, প্যারিস পৌঁছানো বা লন্ডনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আধা-আধি।


২৭ বছর বয়সি ওই যাত্রী বলেন, আমার নতুন বছরের পরিকল্পনা এখন টানেল অপারেটরদের হাতে।


ইউরোস্টার জানিয়েছে, বুধবার দিন শেষ হওয়ার আগেই সব পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে কিছু বিলম্ব ও শেষ মুহূর্তের বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। লন্ডন থেকে প্যারিসগামী সকাল ৬টার পরিষেবাটি বাতিল করা হয়েছে।


মঙ্গলবার ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটি এবং একটি বিকল ট্রেনের কারণে সব রুট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন বছরের প্রাক্কালে যাত্রার পরিকল্পনা করা হাজারো মানুষ আটকে পড়েন। লন্ডন থেকে প্যারিস, আমস্টারডাম ও ব্রাসেলসগামী সব ট্রেনই বাতিল করা হয়।


যদিও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিছু ইউরোস্টার ও অন্য পরিষেবা আংশিক চালু হয়, তবুও সার্বিকভাবে বিলম্ব চলতে থাকে। টানেলের দুটি রেললাইনের মধ্যে তখন মাত্র একটি সচল ছিল। চ্যানেল টানেল পরিচালনাকারী গেটলিংক জানায়, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সারা রাত কাজ চলেছে।


বুধবার সকালে ইউরোস্টারের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, টানেলের বিদ্যুৎ সমস্যার পর পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে, তবে রাতভর অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে এখনও বিলম্ব ও বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে। যাত্রীদের ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থার জন্য অনলাইন আপডেট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নেদারল্যান্ডসের ডেনিস ভ্যান ডার স্টিন পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নতুন বছর উদযাপনে আমস্টারডাম যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি ছয় ঘণ্টা ট্রেনে আটকে আছেন। তিনি বলেন, ট্রেন থামার পর বিদ্যুৎ ছিল না, কেউ ঘুমাচ্ছিল, আবার কেউ ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিল।


আরেক যাত্রী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে থাকতে তার মানসিক অবস্থা “রোলারকোস্টার”-এর মতো হয়ে গিয়েছিল—চ্যানেল পার হওয়া যাবে, না কি লন্ডনে ফিরতে হবে, কিছুই জানা ছিল না। শেষ পর্যন্ত তার ট্রেন ব্রাসেলসে পৌঁছায়।


মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনে আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোস্টারের এক ট্রেনচালকের পাঠানো ছবিতে ট্র্যাকের ওপর ছড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারও দেখা যায়।


এদিকে, চ্যানেল টানেল ব্যবহার করে গাড়ি নিয়ে পার হতে চাওয়া যাত্রীদের কারণে ফোকস্টোনে লি-শ্যাটল টার্মিনালের কাছে তীব্র জট সৃষ্টি হয়। জার্মানি থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে থাকা টিম ব্রাউন জানান, তিনি খাবার ও পানির সুযোগ ছাড়াই তিন ঘণ্টার বেশি সময় আটকে ছিলেন।


মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের অন্তত এক ডজন ইউরোস্টার পরিষেবা বাতিল করা হয়।

ইউরোস্টার যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানায়, তারা বিনা খরচে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন অথবা রিফান্ড কিংবা ই-ভাউচার নিতে পারবেন। সংস্থাটি যাত্রীদের বাতিল হওয়া ট্রেনের জন্য স্টেশনে না আসার পরামর্শও দেয়।

আরও পড়ুন