শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অনলাইন নির্ভরশীলতা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ইস্ট হ্যান্ডস চ্যারিটির উদ্যোগে শনিবার (২৭ জুন) লন্ডনের এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুদের অনলাইন নির্ভরশীলতা দূরীকরণ”।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলার আমিনা আলী। সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সত্যেন সেন স্কুলের সভাপতি গোপাল দাস, যুক্তরাজ্য উদীচীর সভাপতি নূরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক আমিনূর রহমান খান, এটিএন বাংলা ইউকের রিপোর্টার এমডি সুয়েজ মিয়া, নৃত্যশিক্ষক মাধবী দাস গুপ্তাসহ শিশু ও তাদের অভিভাবকরা। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হলে শৈশব থেকেই তাদের পছন্দের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। নাচ, গান, আবৃত্তি, কবিতা, বিতর্কসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তাদের একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও সৃজনশীল জীবন গঠনে সহায়তা করে।
বক্তারা আরও বলেন, সংস্কৃতি চর্চা শিশুদের ডিজিটাল বিশ্বের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ধারার বিনোদন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে সুস্থ বিনোদন ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চা বিস্তারের মাধ্যমেই তাদের অনলাইন নির্ভরতা কমিয়ে একটি মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।