সমুদ্র সৈকতে পানিতে ডুবে নিহত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মা শেলী রহমান ও মেয়ে সামিহা রহমান
গত ২২ জুলাই সমুদ্র সৈকতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মা শেলী রহমান ও তাঁর মেয়ে সামিহা রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বহুল আলোচিত তথ্যকে ভুল বলে দাবি করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ বছর বয়সী মুসা আহমদের পিতা শাহীন আহমদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, শেলী রহমান ও সামিহা রহমান ৭ বছরের শিশু মুসাকে উদ্ধার করতে পানিতে নেমেছিলেন এবং সে কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে—এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
বিবৃতিতে তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র সৈকতে মোট ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনজন শিশু পানিতে খেলছিলেন। হঠাৎ প্রবল স্রোতের টানে সবাই গভীর পানির দিকে ভেসে গেলে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
শাহীন আহমদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে জোয়ার বা বিপজ্জনক স্রোত সম্পর্কে সতর্ক করার মতো কোনো সাইনবোর্ড কিংবা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এছাড়া দুর্ঘটনার পর লাইফগার্ড ও এইচএম কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ওয়েস্ট মার্সি বিচের স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে ভেসে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
ভুল তথ্য যাচাই ছাড়াই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা প্রচার করায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে শাহীন আহমদ বলেন, এতে নিহতদের পরিবারের অনুভূতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
একই সঙ্গে তিনি জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, লন্ডন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, ওয়েস্ট মার্সির স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিশেষভাবে মি. ক্রেইগ বোয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুর্ঘটনার সময় তাঁদের সাহসিকতা, সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাহীন আহমদ বলেন, যাচাইবিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আর যেন কেউ শেয়ার বা প্রচার না করেন। পাশাপাশি সবাই যেন নিহত শেলী রহমান ও সামিহা রহমানের মাগফিরাত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুসার দ্রুত সুস্থতা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখেন।
তিনি জানান, নিহত মা ও মেয়ের স্মরণে একটি চ্যারিটি উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে। পরিবার এই মহৎ উদ্যোগে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।
বিবৃতির শেষে শাহীন আহমদ বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন শেলী রহমান ও সামিহা রহমানকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন, মুসাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ও অবিচলতা দান করেন। আমীন।