লন্ডন : বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

আরব দেশগুলোর ওপর যুদ্ধের ব্যয় চাপাতে চান ট্রাম্প

আরব দেশগুলোর ওপর যুদ্ধের ব্যয় চাপাতে চান ট্রাম্প

আরব দেশগুলোর ওপর যুদ্ধের ব্যয় চাপাতে চান ট্রাম্প


প্রকাশ: ৩১/০৩/২০২৬ ০৮:৩২:৫২ অপরাহ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর চাপানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাতের খরচ বহনে আরব দেশগুলোকে আহ্বান জানাতে পারেন তিনি। এই যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অর্থায়ন করেছিল।

এবারও তেমন উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যার প্রতি প্রেসিডেন্টের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আহ্বান জানাতে পারেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্ত করা এবং তাদের কাছ থেকে ব্যয় আদায়ের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আরব নেতারা এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

লেভিট আরও বলেন, আমি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে চাই না। তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি ধারণা, যা তিনি বিবেচনা করছেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তার বক্তব্য আরও স্পষ্ট হতে পারে।

১৯৯০ সালে কুয়েতকে ইরাকের দখল থেকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্ব দেয়। সে সময় জার্মানি ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার (বর্তমান মূল্যে প্রায় ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) সহায়তা করেছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একতরফাভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী ভাষ্যকার শন হ্যানিটি মন্তব্য করেন, সম্ভাব্য যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানকে যুদ্ধের ব্যয় বহন করতে হবে। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শন হ্যানিটি বলেন, পুরো সামরিক অভিযানের ব্যয় ইরানকে তেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে—এই যুদ্ধে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে এবং সেটি যুদ্ধবিরতির শর্তের অংশ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, ইরানি হামলায় বেসামরিক স্থাপনা—যেমন হোটেল, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের এক গোপন শুনানিতে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাবে, ১২তম দিনে এই ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। বর্তমানে যুদ্ধ ৩২তম দিনে গড়িয়েছে, ফলে মোট ব্যয় আরও অনেক বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে।

সংঘাতের প্রভাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন (৩.৮ লিটার) পেট্রলের গড় দাম এখন প্রায় ৪ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এক ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেভিট বলেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য লাভজনক হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে দুর্বল করা আমাদের কৌশলগতভাবে উপকারী হবে।

ইরানের দাবি, তারা কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই প্রথম আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের জন্য তারা কোনো হুমকি ছিল না।

আরও পড়ুন