ফ্রন্টলাইন হরমুজ প্রণালি
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে একের পর এক জাহাজে হামলা, সমুদ্রে মাইন বসানোর অভিযোগ এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে বিস্ফোরক করে তুলেছে।
জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।
একই সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি, তেহরানে বিস্ফোরণ, আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা মিলিয়ে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে সংঘাতের পরিধি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গতকাল বুধবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে পৃথক তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।
ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ময়ূরী নারি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নেভানো হলেও নিরাপত্তার কারণে বেশির ভাগ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ওয়ান ম্যাজেস্টি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজের ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং জাহাজটি নিরাপদ নোঙরের দিকে এগিয়ে গেছে।
এ ছাড়া দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার স্টার গেয়িনেথ–এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন।
সর্বশেষ দফা হামলার পর চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে আক্রান্ত জাহাজের সংখ্যা অন্তত ১৪টিতে দাঁড়িয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের তেলবাহী ট্যাংকার এই পথ দিয়ে পাঠাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। হামলার আশঙ্কা এবং মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁঁকির কারণে প্রণালিটি এখন অনেকের কাছেই ‘ডেথ
ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরান প্রণালির কিছু এলাকায় সমুদ্র মাইন বসানো শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত তা সীমিত আকারে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের হাতে এখনও বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র যুদ্ধজাহাজ ও মাইন স্থাপনকারী নৌযান রয়েছে। প্রয়োজনে তারা শত শত মাইন ছড়িয়ে পুরো জলপথ অচল করে দিতে পারে।
ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বর্তমানে এ প্রণালির নিরাপত্তা ও সামরিক তৎপরতা তদারক করছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অন্তত ১০টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংস করেছে।
পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করে, তারা ১৬টি মাইন পাতা ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও ওই হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে তাদের বক্তব্য।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন যে কোনো জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে, তবে সেগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে এই প্রণালি দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও পার হতে দেওয়া হবে না।’
যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে বাড়তে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কিছু সময়ের জন্য তা ১২০ ডলারও ছুঁয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, পরিস্থিতি সাময়িক এবং খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে সামরিক পাহারার ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কত দ্রুত কার্যকর করা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বাজার স্থিতিশীলে মজুদ তেল ছাড়ার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মজুদ তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।
জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্যাথরিনা রাইখে জানান, আইইএর ৩২টি সদস্য দেশকে সম্মিলিতভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এটি দেশগুলোর মোট মজুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
এদিকে জাপানও তাদের তেলের মজুদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি বলেন, আইইএর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে জাপান নিজে ১৬ মার্চ থেকে বেসরকারি খাতের ১৫ দিনের এবং রাষ্ট্রীয় মজুদের এক মাসের তেল বাজারে ছাড়বে। এ ছাড়া অস্ট্রিয়াও নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাবে বলে জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের আল-উদাইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটি, মোহাম্মদ আল-আহমদ নৌঘাঁটি এবং আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি। একই সঙ্গে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফার একটি নৌঘাঁটি, একটি রাডার ব্যবস্থা এবং সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল নতুন করে বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছ থেকে বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের আভা দেখা যায়।
তেহরানের একটি আবাসিক এলাকাতেও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা সেখানে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ৭৩৪টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে নতুন দফায় সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, পশ্চিম জেরুজালেম ও তেল আবিবসংলগ্ন কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘সুপার-হেভি খোররাম শাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তেল আবিবের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরান আরও দাবি করেছে, তারা ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট ক্যাম্পে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংকগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
ইরানের একটি ব্যাংকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু। তিনি আঞ্চলিক জনগণকে এসব ব্যাংকের এক কিলোমিটারের মধ্যে না থাকার সতর্কতাও দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় ফেরার বিকল্প নেই এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সংঘাত আর বাড়তে না দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের সময় আহত হয়েছেন বলে খবর ছড়ালেও তিনি বর্তমানে নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংঘাত বাড়তে থাকায় বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৩ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়া আবুধাবি ও তেল আবিবে তাদের দূতাবাস এবং দুবাইয়ের কনস্যুলেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে কোনো বাংলাদেশি প্রবাসী বাহরাইনের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি তার ভিসা নবায়ন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস। গতকাল বুধবার দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
দূতাবাস জানায়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আবেদনের পর পেমেন্টের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট করলে ভিসা নবায়ন হয়ে যাবে।
এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বর (+৯৭৩-৩৩৩৭৫১৫৫)-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
একদিকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ প্রায় জিতে গেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অঞ্চলটিতে তৃতীয় একটি বিমানবাহী নৌবহর মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল ইরানে ক্ষমতাসীনদের দুর্বল করে দিয়ে তাদের ইসলামী শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা। কিন্তু এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
তাই যুদ্ধের কৌশল এখন ‘প্ল্যান বি’তে পৌঁছেছে, যার দুটি উপাদান আছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুর্দি বা বালুচদের মতো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করে তাদের বিদ্রোহে উৎসাহ দেওয়া, যাতে ইরান ভেঙে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এটাই ‘দাহিয়া নীতি’। এই নীতি অনুযায়ী যদি কোনো বিদ্রোহ দমন করা না যায় বা কোনো রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে বশে আনা সম্ভব না হয়, তাহলে বিজয়ের পথ হলো বেসামরিক জনগণের ওপর অবিরাম কঠোর আঘাত হানা।
এই নীতি বর্তমানে লেবাননে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়া উপশহরে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি ধ্বংস করার অভিযান শুরু হয়েছে। ২০০৬ সালের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় থেকেই এই এলাকার নাম থেকেই নীতিটির নামকরণ হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা, ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলা এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নÑ সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।