আকি খান (Acky Khan)
মাইক্রোওয়েভ বা রান্নাঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ১,৫০০ জন কর্মীর প্রতিষ্ঠাতা: এক কেএফসি (KFC) ব্যবসায়ীর সাফল্যের গল্প নিয়ে বিবিসি রেডিও এর একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে।
এতে বলা হয়, যখন আকি খান (Acky Khan) তাঁর ও-লেভেল (O-Level) পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করছিলেন, তখন তিনি পূর্ব লন্ডনের একটি কেএফসি (KFC) রেস্তোরাঁয় রান্নাঘর পরিষ্কার করার কাজ নেন।
একই প্রতিবেদনে তিনি বলেন, কাজটি অনেক কঠিন ছিল। এটা মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়, তবে একবার অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর অভিজ্ঞতাটি সত্যি উপভোগ্য ছিল।
এর ৪০টিরও বেশি সময় পর, আকি খান এখন ৫০টি কেএফসি রেস্তোরাঁ এবং ৩০টি স্টারবাকস (Starbucks) কফি শপে প্রায় ১,৫০০ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে সম্প্রতি শ্রুসবারির (Shrewsbury) মিওল ব্রেস রিটেইল পার্কে চালু হওয়া একটি নতুন রেস্তোরাঁও রয়েছে।
এই ব্যবসায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর ব্যবসার আকার দ্বিগুণ করার আশা করছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে আতিথেয়তা (হাসপিটালিটি) খাতের ব্যবসাগুলো দিন দিন চাপের মুখে পড়ছে।
সরকারের আসন্ন শরৎকালীন বাজেটের আগে খান এই খাতের জন্য আরও সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই খাতটি তরুণদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করে যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন, আমি আমাদের ব্যবসার ভেতরেই তাদের বড় হতে দেখি। কর্মীরাই মূলত এই ব্যবসাটি চালান, আমি নই।
খান তাঁর শৈশবেই আতিথেয়তা খাতের প্রতি আগ্রহের উৎস খুঁজে পান, যখন টেকঅ্যাওয়ে (পার্সেল) খাবার তাদের পরিবারে একটি দুর্লভ বা বিশেষ উপহারের মতো ছিল।
কিশোর বয়সে এই শিল্পের প্রথম অভিজ্ঞতা পাওয়ার পর তিনি নিজের একটি ব্যবসা গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হন।
তিনি বলেন, যে কোনো ব্যবসা বোঝার জন্য সরাসরি হাতে-কলমে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কর্মীরা কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ওই রান্নাঘরে কাজ করা কতটা কঠিন তা আমি জানি। সারারাত ধরে থালা-বাসন ও ট্রেই ধোয়া কতটা কষ্টের, তা আমার জানা আছে।
খান জানান, সেই অভিজ্ঞতা এখনও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে দেয়। তাঁর ২৮ বছর বয়সী জমজ দুই ছেলেও এখন একদম গোড়া থেকে এই কাজ শিখছেন।
১৯৯৬ সালে ১৫ জন কর্মী নিয়ে তাঁর প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু হয়, তবে ব্যবসা দাঁড় করাতে গিয়ে তাঁকে বিশাল ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিতে হয়েছিল।
খান জানান, দোকানটি কেনার জন্য ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করতে তিনি নিজের বাড়ি পর্যন্ত বন্ধক রেখেছিলেন।
২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় এই চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র রূপ নেয়, যখন তিনি তাঁর ঘরবাড়ি এবং ব্যবসা দুটিই হারানোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্পষ্ট মনে আছে, তৎকালীন ব্যাংকের বোর্ডরুমে বসে আমি টেবিলের ওপর ঘরের চাবি ছুঁড়ে মেরেছিলাম। আমি বলেছিলাম, 'জানেন কি, আপনারা চাইলে আমার বাড়ি এবং ব্যবসা দুটোই নিয়ে নিতে পারেন'।
'ব্যবসার আসল চালিকাশক্তি'
হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা একটি ব্যবসা গড়ে তোলা সত্ত্বেও খান বলেন, আতিথেয়তা খাতের ব্যবসায়ীদের এখনও "কঠিন" চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন রেস্তোরাঁ খোলার পেছনের বিশাল খরচের কথা তুলে ধরেন।
গত এপ্রিলে জাতীয় সর্বনিম্ন মজুরির হার বৃদ্ধির ফলে যেসব খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিল আতিথেয়তা খাত তার অন্যতম। এছাড়া রান্নাঘরের নানা চাহিদার কারণে রেস্তোরাঁগুলোতে সাধারণত প্রচুর বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খরচ হয়।
গত জুলাই মাসে পার্লামেন্টের ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন কমিটি যুব বেকারত্ব দূর করার উপায় হিসেবে ২৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের 'জাতীয় বীমা প্রদান' (National Insurance contributions) কমানোর আহ্বান জানিয়েছিল।
খান বলেন, আতিথেয়তা খাতের ব্যবসাগুলো তরুণদের ক্যারিয়ার শুরুর ক্ষেত্রে যেসব সুযোগ প্রদান করে সেগুলোকে ‘যথেষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া হয় না’।
চ্যান্সেলরের (অর্থমন্ত্রী) প্রতি তাঁর বার্তা: আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ী—যাঁরা গ্রামীণ শহরগুলোতে কর্মসংস্থান তৈরি করছেন এবং অর্থনীতি সচল রাখছেন—তাঁদের কথা ভুলে যাবেন না।