যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ করায় গ্রেপ্তার একজন সমর্থক
যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনস্থলের বাইরে নিষিদ্ধ ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে বিক্ষোভ করায় ৫০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লিভারপুলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
পুলিশ জানায়, ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সংগঠনটিকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করে লেবার সরকার।
রোববার সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরে ২৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী বসে বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ব্রিটিশ ব্যান্ড ম্যাসিভ অ্যাটাকের গায়ক রবার্ট ডেল নাজাও রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের ব্যানার প্রদর্শন অব্যাহত রাখবেন কি না, তা জানতে চান। পরে কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের জানানো হয়, সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত বিক্ষোভের অধিকারকে তারা সম্মান করে। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্ব।
লিভারপুল থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক মিলেনা ভেসেলিনোভিচ জানান, লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনেই প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি দলটির নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চেয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, গাজায় মানুষ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া তার তুলনায় কিছুই নয়। একই সঙ্গে এটি আমাদের মতপ্রকাশের অধিকারের বিষয়।
অন্য এক বিক্ষোভকারী বলেন, আন্দোলনে ধর্মযাজক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ এমন অনেক মানুষ অংশ নিয়েছেন, যারা ন্যায়-অন্যায় নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের প্রধান নির্বাহী কেরি মসকোগিউরি বলেন, সরকারের নেতাদের নিজেদের কথা শোনানোর জন্য বিক্ষোভ ‘সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি’। তিনি গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ‘লজ্জাজনক আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে লিভারপুলের একটি রেস্তোরাঁয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি হন। তারা প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। পরে মিলিব্যান্ড কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই সংগঠনটির সমর্থনে যুক্তরাজ্যে নাগরিক অবাধ্যতার আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকেই ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি। আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছেন।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও চলছে। গত জুনে লন্ডনের কোর্ট অব আপিল সরকারের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পর মামলাটি এখন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।