ইরান ও ব্রিটেনের পতাকা
আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বিমুখ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
ইসলামাবাদের সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা করেছেন। তা সোমবার ইরানের সময় বিকেল ৫টার দিকে কার্যকর হওয়ার কথা। এই অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য ব্রিটেনকে আহ্বান করেছেন ট্রাম্প।
কিন্তু ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার তাকে ‘না’ বলে দিয়েছেন। দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর সহায়তার কথা বললেও তেলবাহী জাহাজে অবরোধে অংশ নিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না ব্রিটেন।
এর বদলে ব্রিটেন মাইনসুইপার বা মাইন অপসারণকারী জাহাজ মোতায়েন করবে, যাতে ইরান নিয়ন্ত্রিত জলপথটি পরিষ্কার করা যায়।
রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন নৌবাহিনী ‘হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজ’ থামানো শুরু করবে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো চুক্তি হয়নি। কারণ তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনা করেছে। তবে তিনি এক্সে লিখেছেন, চুক্তির একেবারে কাছাকাছি গিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চাপ, শর্ত বদলানো এবং অবরোধের মুখে পড়ি।
সদিচ্ছা জন্ম দেয় সদিচ্ছা, শত্রুতা জন্ম দেয় শত্রুতা। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন তার আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করবে।
অন্য দেশগুলোর নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপে সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে।
রবিবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান খুব খারাপ অবস্থায় আছে এবং অন্যান্য দেশ একসঙ্গে কাজ করছে যাতে তেহরান তেল বিক্রি করতে না পারে।
এরপর তিনি ন্যাটোর সমালোচনা করে বলেন, আমি ন্যাটো নিয়ে খুব হতাশ। তারা আমাদের পাশে ছিল না। আমরা ন্যাটোর জন্য ট্রিলিয়ন ডলার দিই। কিন্তু তারা আমাদের পাশে ছিল না। এখন তারা আসতে চায়। কিন্তু আর কোনো বড় হুমকি নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, আলোচনায় বেশিরভাগ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পারমাণবিক সমস্যার সমাধান হয়নি।
এরপরই তিনি হরমুজ প্রণালিতে সব জাহাজ অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি ব্রিটেনসহ ন্যাটো সদস্যদের ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতির সমালোচনা করে জোটটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলেন।
রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প আবারও কিয়ের স্টারমারকে নেভিল চেম্বারলেইনের সঙ্গে তুলনা করেন। নেভিল চেম্বারলেইনের নেতৃত্ব ১৯৩০-এর দশকে নাৎসি জার্মানির প্রতি সমঝোতা নীতির জন্য পরিচিত।
রবিবার রাতে ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, স্টারমার ও ইমানুয়েল ম্যাক্রনের ফোনালাপের পর ব্রিটেন নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় ফ্রান্সসহ অন্যান্য অংশীদারদের নিয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠনে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
ব্রিটেনের কাছে ওই অঞ্চলে মাইন অপসারণের প্রযুক্তি রয়েছে, যা ইরানের বসানো নৌমাইন পরিষ্কারে কাজে লাগানো হতে পারে। তবে তা সম্ভবত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই করা হবে।