সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমি (বিএফএ) এর সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম মেয়েদের বিনামূল্যে আবাসিক শিক্ষার সুযোগ করে দিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমি (বিএফএ) পরিচালনায় টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের খাবার, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, শিক্ষা উপকরণ, আবাসন ও ইউটিলিটি বিলসহ নিয়মিত পরিচালন ব্যয় নির্বাহে দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা, প্রবাসী বাংলাদেশি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ২১ অক্টোবর দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমির সভাপতি জামিল চৌধুরী প্রতিষ্ঠানের পথচলা, অর্জন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এ আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৩ সালে জামিল চৌধুরী ও তাঁর সহধর্মিণী প্রয়াত বেগম রোকেয়া চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।
দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম মেয়েরা যাতে অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্যোগে জমি ক্রয় ও শিক্ষাভবন নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি গড়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ এপ্রিল তিনটি শ্রেণিতে ৯০ জন ছাত্রী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
প্রায় ছয় একর জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা, আবাসন, প্রশাসনিক ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার বর্গফুট অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
এখানে সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের বিনা মূল্যে শিক্ষা, থাকা-খাওয়া, পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার জন্য মসজিদ ও মক্তব কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সরকারি সংস্থা সহযোগিতা করেছে বলে জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
তবে অবকাঠামোগত অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত পরিচালন ব্যয় নির্বাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খাবার, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, শিক্ষা উপকরণ, আবাসন ব্যয়, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে নিয়মিত ও টেকসই অর্থায়ন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জামিল চৌধুরী বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করতে চায়। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২৭ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সহযোগী, দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির ভাষ্য, একটি মেয়েকে শিক্ষিত করে তোলা মানে একটি পরিবারকে এগিয়ে নেওয়া। তাই সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।