লন্ডন : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যে প্রথমবার বাড়ি কিনতে নতুন সরকারি সহায়তার কর্মসূচি ঘোষণা


প্রকাশ: ২২/১০/২০২৬ ১০:২৬:৪৬ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান—এমন মানুষের জন্য নতুন একটি সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

‘Your First Home’ নামের এই স্কিমের আওতায় ইংল্যান্ডে যোগ্য প্রথমবারের ক্রেতারা মাত্র ২.৫ শতাংশ ডিপোজিট দিয়ে নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। বাকি অর্থের একটি অংশ সরকার ইকুইটি লোন হিসেবে দেবে।

সরকার জানিয়েছে, যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পেতে পারেন। এই ঋণের শুরুতে একটি নির্দিষ্ট সময় সুদমুক্ত থাকার কথা রয়েছে। ফলে প্রচলিত ৯৫ শতাংশ মর্টগেজের তুলনায় মাসিক অর্থের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

তবে স্কিমটির বিস্তারিত নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটে চ্যান্সেলর জন হিলি এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো, যোগ্যতা, ব্যয়ের সীমা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করবেন।

সহজ হিসাব করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ধরা যাক, কোনো যোগ্য ক্রেতা £230,000 মূল্যের একটি নতুন বাড়ি কিনছেন। ২.৫ শতাংশ ডিপোজিটের জন্য তাঁকে প্রায় £5,750 জমাতে হবে।

এরপর বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় £46,000, সরকারি ইকুইটি ঋণ হিসেবে পাওয়া যেতে পারে। বাকি অর্থের জন্য ক্রেতাকে মর্টগেজ নিতে হবে।

তবে এটি সরাসরি নগদ অনুদান নয়। সরকারি ইকুইটি ঋণ বাড়ির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে সেটি পরিশোধ করতে হবে। 

সরকারের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঋণটি নির্দিষ্ট শর্তে বাড়ি বিক্রির সময়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অথবা মূল মর্টগেজের সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়ম অনুযায়ী ফেরত দিতে হবে।

‘Your First Home’ মূলত নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ক্রেতাকে এমন ডেভেলপারের কাছ থেকে বাড়ি কিনতে হবে, যিনি সরকারি স্কিমে অংশগ্রহণ করছেন।

সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রথমবারের ক্রেতাদের বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়ানো নয়; একই সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের বাজারেও চাহিদা তৈরি করা। বর্তমানে উচ্চ ঋণের খরচ, নির্মাণ ব্যয় এবং ক্রেতাদের সামর্থ্যের সংকটের কারণে নতুন বাড়ির বাজার চাপের মধ্যে রয়েছে।

সব প্রথমবারের ক্রেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাবেন না। সরকারের পরিকল্পনায় household income cap বা পরিবারের আয়ের সর্বোচ্চ সীমা থাকবে।

এ ছাড়া এলাকার বাড়ির দামের ওপরও সীমা নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ বেশি দামের এলাকায় যে কোনো মূল্যের বাড়ি কিনতে এই সরকারি সহায়তা ব্যবহার করা যাবে না। এসব সীমা নির্ধারণের বিস্তারিত বাজেটে জানানো হবে।

সরকারের ঘোষণার প্রভাব সোমবার শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে। ব্রিটিশ হাউসবিল্ডার কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রয়টার্সের হিসাবে, Persimmon, Barratt Redrow, Taylor Wimpey ও Vistry-সহ বড় নির্মাণ কোম্পানিগুলোর শেয়ার সকালে প্রায় ১৩ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। হাউসবিল্ডার সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়।

কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ডিপোজিটের বাধা কমলে প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ি কেনার চাহিদা বাড়তে পারে এবং তার ফলে নতুন বাড়ির বিক্রিও বাড়তে পারে। তবে এই প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে স্কিমটির চূড়ান্ত নিয়ম এবং মর্টগেজের সুদের হারের ওপর।

নতুন স্কিমটি অনেকটা সাবেক Help to Buy ব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই কর্মসূচির অধীনে সরকার নতুন বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ইকুইটি ঋণ দিত। ২০২৩ সালে Help to Buy বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য এমন সরকারি সহায়তার বড় একটি ব্যবস্থা আর ছিল না।

নতুন ‘Your First Home’ সেই ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনছে। তবে সরকার এবার আয় ও স্থানীয় বাড়ির দামের সীমা রেখে সহায়তাটি নির্দিষ্ট ক্রেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে।

স্কিমটি প্রথমবারের ক্রেতাদের ডিপোজিটের সমস্যা কমাতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদ ও আবাসন বিশ্লেষকদের মধ্যে একটি প্রশ্নও রয়েছে—একই সময়ে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়লে কিন্তু বাড়ির সরবরাহ যথেষ্ট না বাড়লে বাড়ির দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে কি না।

সরকার অবশ্য বলছে, স্কিমটির আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া। ডেভেলপারদেরও স্কিমে অংশ নেওয়ার সময় একটি আর্থিক অবদান রাখতে হবে। ফলে সরকার একদিকে ক্রেতার চাহিদা বাড়াতে এবং অন্যদিকে নতুন বাড়ির সরবরাহ বাড়াতে চাচ্ছে।

কম ডিপোজিট প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা কমাতে পারে, কিন্তু বাড়ি কেনার মোট খরচের ক্ষেত্রে মর্টগেজের সুদের হার এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

২.৫ শতাংশ ডিপোজিট থাকলেই যে সবাই মর্টগেজ পাবেন, এমন নয়। ঋণদাতারা আবেদনকারীর আয়, ব্যয়, ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করবে। ফলে সরকারি ইকুইটি লোন ডিপোজিটের সমস্যা কমালেও বাড়ি কেনার পুরো আর্থিক বাধা দূর করবে না।

নতুন স্কিমটি সরকারের বৃহত্তর আবাসন পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত। লেবার সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নতুন ক্রেতাদের জন্য সরকারি সহায়তার মাধ্যমে চাহিদা বাড়ানো এবং ডেভেলপারদের নতুন বাড়ি নির্মাণে উৎসাহিত করা সেই পরিকল্পনার অংশ।

তবে ‘Your First Home’ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। আগামী মাসের বাজেটেই এর চূড়ান্ত নিয়ম, আয় ও বাড়ির মূল্যসীমা, অর্থায়ন এবং কবে থেকে আবেদন করা যাবে—এসব পরিষ্কার হবে। 

তাই যারা প্রথমবার বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজেটের চূড়ান্ত ঘোষণা এবং নিজেদের আয়, ডিপোজিট ও সম্ভাব্য মর্টগেজ সামর্থ্য যাচাই করা।

আরও পড়ুন